Hidden Stories (বাংলা)

Delhi CJP protest: এক বিক্ষোভে বন্দি ৪ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী! বিরোধীদের 'নৈরাজ্য' উড়িয়ে তোপ বিজেপির

নয়াদিল্লি: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং 'ভোটচুরি'র অভিযোগে শনিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল জাতীয় রাজধানীতে। 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই দিল্লিতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর চরম কড়াকড়ি। যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে রওনা হতেই দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ সহ একাধিক স্থান থেকে আটক করা হলো চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। চার হেভিওয়েট নেতার একসঙ্গে আটক হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হলেও, গোটা আন্দোলনকে কার্যত 'ফুৎকারে' উড়িয়ে দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিল কেন্দ্রে শাসক দল বিজেপি।শনিবার সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাসস্ট্যান্ডে ধরণায় বসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডেরেক ও'ব্রায়েন ও দোলা সেন সহ বেশ কয়েকজন সাংসদকে নিয়ে প্রতিবাদের মুখে ব্যান্ডেজ এঁটে বসেন তিনি। সেখান থেকেই পুলিশ তাঁকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। গাড়ি থেকে মমতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকার আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। আমরা ইন্ডিয়া জোট মানুষের গলা চেপে ধরার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখব।" অন্যদিকে সকাল থেকেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়ি ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। তিনি বেরোনোর চেষ্টা করতেই তাঁকে আটক করা হয়। একই পরিণতি হয় পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারের। তাঁদের ছত্রশাল স্টেডিয়ামে তৈরি অস্থায়ী আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু রাজনীতিকরাই নন, পুণে থেকে আসা সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং অন্য নেতাদের বিমানে পৌঁছানো মাত্রই রানওয়ে থেকে আটক করে পুলিশ।তবে দিল্লিতে বিরোধীদের এই নজিরবিহীন মহাজোট ও বিক্ষোভ কর্মসূচিকে বিন্দুমাত্র আমল দিতে নারাজ বিজেপি। দলের প্রবীণ নেতা ও মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ পাল্টা তোপ দেগে গোটা বিক্ষোভকে 'নৈরাজ্য সৃষ্টির চক্রান্ত' বলে কটাক্ষ করেছেন। দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রসাদ বলেন, "ভারত কোনও 'বানানা রিপাবলিক' নয়। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই দেশ কারও কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না। ভারতীয় গণতন্ত্র নৈরাজ্য তৈরির এই চক্রান্তকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।" দেশের উপনির্বাচনে বিজেপি ও এনডিএ-র জয়ের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, জনগণ এই সুবিধাবাদী আন্দোলনকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিরোধীদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন, "নির্বাচনে পরপর হারের জ্বালা থেকেই আপনারা রাস্তাকে হাতিয়ার করছেন। কিন্তু দেশ চলবে সংসদীয় নিয়ম মেনে, রাস্তার রাজনীতিতে নয়।"এদিকে চেন্নাইয়ের এক অনুষ্ঠান থেকে এক্স (সাবেক নয়, বরং এক্স) হ্যান্ডেলে মোদী সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, "সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন, দেশের যুব সমাজকে গ্রেপ্তার করুন। কিন্তু আমরা পিছিয়ে যাব না। ভারতীয় যুব সমাজকে নিয়ে আমি গর্বিত, প্রতিবাদ জারি রাখুন।" শুক্রবারই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে ডেপুটেশন জমা দিয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। আগামী সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে দরবার করার কথাও রয়েছে তাঁদের। চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আটক ও বিরোধী বনাম বিজেপির এই তীব্র রাজনৈতিক যুদ্ধ ঘিরে আপাতত উত্তপ্ত রাজধানীর রাজনীতি।

Delhi CJP protest: এক বিক্ষোভে বন্দি ৪ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী! বিরোধীদের 'নৈরাজ্য' উড়িয়ে তোপ বিজেপির