Suvendu Adhikari: রাজ্যে এসটিএফকে স্বাধীনের ‘সবুজ সংকেত’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
বিধাননগর: লক্ষ্য ‘নেশামুক্ত ভারত ২০২৯’ তথা পূর্ণাঙ্গ ‘নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ’। সেই কঠিন সংকল্প বাস্তবায়নে এ বার খোদ প্রশাসনিক ময়দানে নেমে রণহুঙ্কার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বালুরঘাটের সফল অভিযানের পর বুধবার কলকাতার ইকো পার্কে দ্বিতীয় দফায় বাজেয়াপ্ত হওয়া বেআইনি ও নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের উপর চলল বুলডোজার। স্টিয়ারিংয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী! প্রায় ৩ লক্ষ ১০ হাজার বোতল নিষিদ্ধ ফেনসিডিল ইকো পার্কে প্রকাশ্যে পে-লোডার দিয়ে পিষে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, “পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের কারবার কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না।”উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ কাফ সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩১ কোটি টাকা! এর আগে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার অফিসের সামনে নিজে রোড রোলার চালিয়ে আরও ২০ কোটি টাকার নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ধ্বংস করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ দুই দফায় মোট ৫১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বেআইনি ড্রাগ নিষ্ক্রিয় করল নয়া রাজ্য প্রশাসন।এ দিনের কর্মসূচি শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (STF) ক্ষমতা ও স্বাধীন ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মাদক মামলার তদন্ত, দ্রুত চার্জশিট পেশ এবং অভিযুক্তদের সাজা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় রাজ্য তদন্তকারী আধিকারিকদের আইনি ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণ অনুমোদন মিলছে। ফলে মাদক সিন্ডিকেট ভাঙতে পুলিশ ও এসটিএফ এখন আরও স্বাধীনভাবে এবং হাত খুলে কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে। শুভেন্দুর সংযোজন, “আমাদের মূল লক্ষ্য বাংলার যুবসমাজকে এই মরণফাঁদ থেকে রক্ষা করা। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক বর্বরোচিত ও অসামাজিক অপরাধে নেশাসক্তদের যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এই বিষাক্ত পরিবেশ আর চলতে দেওয়া যায় না।”শুধু অভিযান চালানোই নয়, ভিন রাজ্য বা আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে যাতে নিষিদ্ধ ওষুধের চালান রাজ্যে না ঢুকতে পারে, তার জন্য বিএসএফ (BSF), রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ ও নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর মধ্যে সমন্বয় বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যেই এসটিএফের তৎপরতায় অসম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কুখ্যাত ড্রাগ মাফিয়া জাবেদ শামিমকে।প্রশাসনিক এই ধারাবাহিক চাপের মুখে হরিরামপুরের একটি অভিযুক্ত প্রস্তুতকারক সংস্থা 'Laborate Pharmaceuticals' রাজ্য সরকারকে লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা তাদের ‘Eskuf Cough Syrup’ বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করছে এবং মজুত সমস্ত মাল ফিরিয়ে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে, বেআইনি মাদক পাচারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতিরই চরম প্রতিফলন দেখা গেল বিধাননগরের এই মেগা ড্রাইভে।