Irani Trophy: ইরানি ট্রফিতে মুকেশের বিধ্বংসী ‘ছক্কা’, স্মরণের সেঞ্চুরিতে চ্যাম্পিয়ন রেস্ট অফ ইন্ডিয়া
শ্রীনগর: প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়েও রণনীতি বদলে দুরন্ত ঘুরে দাঁড়ানো। শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে রঞ্জি ট্রফি জয়ী জম্মু ও কাশ্মীরকে ১৬৭ রানে চূর্ণ করে ৩১ তম ইরানি ট্রফি ঘরে তুলল রেস্ট অফ ইন্ডিয়া। সৌজন্যে, তরুণ ব্যাটার রবিচন্দ্রন স্মরণের দুর্দান্ত শতরান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে পেসার মুকেশ কুমারের আগুনে বোলিং স্পেল।ম্যাচের চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ২৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জম্মু ও কাশ্মীরের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১১১ রানে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পরই খেলা পুরো বদলে যায়। মাত্র ২২ রানের বিনিময়ে জম্মু-কাশ্মীরের শেষ সাতটি উইকেটের পতন ঘটে। বঙ্গ পেসার মুকেশ কুমার ৩৩ রানে ৬ উইকেট নিয়ে রণজি চ্যাম্পিয়নদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটাই তাঁর ১১তম পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি। অন্য প্রান্তে দীর্ঘ দিন পর লাল বলের ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করা আকাশ দীপ ২৫ রানে নেন ৩টি উইকেট।অথচ প্রথম ইনিংসে ৪১ রানের লিড পেয়ে জম্মু ও কাশ্মীর শিরোপা জয়ের শক্ত ভিত গড়েছিল। ড্র হলেই ট্রফি উঠত তাদের হাতে। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুভম খাজুরিয়া ও কমরান ইকবাল উদ্বোধনী জুটিতে ৫৪ রান তুলে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই এগোচ্ছিলেন। কিন্তু আকাশ দীপ ইকবালকে এলবিডব্লিউ করে সেই প্রতিরোধ ভাঙেন। এর পর ১৫তম ওভারে মুকেশের জোড়া ধাক্কা। প্রথমে শুভম পুণ্ডীরকে এলবিডব্লিউ ও পরে অধিনায়ক পারস ডোগরাকে বোল্ড করে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন স্বাগতিকদের। মধ্যাহ্নভোজের পর প্রথম বলেই খাজুরিয়া আউট হতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তাদের প্রতিরোধ। কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান, আবিদ মুশতাক, উমর নাজির ও সুনীল কুমারদের পর পর ফেরান মুকেশ।এর আগে দিনের শুরুতে ৮ উইকেটে ৩০৬ রান নিয়ে খেলা শুরু করে রেস্ট অফ ইন্ডিয়া শেষ পর্যন্ত ৩১৯ রানে অলআউট হয়। তরুণ ব্যাটার স্মরণ, যিনি প্রথম ইনিংসে ৬৮ রান করেছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসেও দলের চরম বিপদে খেলেন অবিশ্বাস্য ১৩৫ রানের ইনিংস। ৯ নম্বর ব্যাটার মুকেশ চৌধুরীর সঙ্গে গড়ে তোলেন ১১৩ রানের মূল্যবান পার্টনারশিপ, যা দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়।জয়ের পর দলের কৌশলী বদল নিয়ে অধিনায়ক ঋষভ পন্থ বলেন, ‘‘প্রথম ইনিংসে আমাদের বোলাররা খানিকটা বেশি শর্ট লেংথে বল ফেলে ফেলেছিল। ড্রেসিংরুমে কথা বলে আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে ফুলার লেংথে বল করার সিদ্ধান্ত নিই। স্টাম্পের লাইনে ফুলার লেংথ ব্যাক করাই পার্থক্য গড়ে দেয়।’’ দ্বিতীয় ইনিংসে তীব্র জ্বরে ভুগে ফিল্ডিং করতে না পারলেও অধিনায়ক পন্থ তরুণ স্মরণের ব্যাটিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে যোগ করেন, ‘‘চাপের মুখে দুই ইনিংসেই স্মরণ যেভাবে ব্যাট করেছে, তা এক কথায় অনবদ্য।’’