Muskan Rastogi: নীল ড্রাম খুনের মামলায় ফাঁসির সাজা মুশকান ও সাহিলের
মেরঠ: দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলা মেরঠের বহুল চর্চিত ‘নীল ড্রাম’ খুনের মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল আদালত। মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে নৃসংভাবে খুন করে ড্রামে দেহ সিমেন্ট চাপা দেওয়ার ঘটনায় স্ত্রী মুশকান রাস্তোগি এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিল মেরঠ জেলা আদালত। বুধবার ১২৬টি শুনানি এবং ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র এই চরম সাজা ঘোষণা করেন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সাজা শোনার সময় আদালতে উপস্থিত ছিল দুই অপরাধীর পরিবার। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানান, এ ধরনের ঘৃণ্য ও নৃশংস অপরাধ সমাজে গভীর আতঙ্ক তৈরি করে, তাই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানই ন্যায়বিচারের একমাত্র পথ।ঘটনার বীভৎসতা চমকে দিয়েছিল পুর দেশকে। গত বছরের ৩ মার্চ রাতে মেরঠের ইন্দ্রনগর এলাকায় নিজের বাড়িতেই স্বামী সৌরভ রাজপুতকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে মুশকান। এর পর ঘরে ঢোকে তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লা। দু’জনে মিলে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করে সৌরভকে। অপরাধের প্রমাণ ঢাকতে স্নানঘরে সৌরভের দেহ টুকরো টুকরো করে কাটা হয়। এর পর দুর্গন্ধ ঢাকতে একটি বিশালাকার নীল রঙের প্লাস্টিক ড্রামের ভেতর সেই মাংসপিণ্ড পুরে ওপর থেকে বালি, সিমেন্ট ও জলের তাজা মিশ্রণ ঢেলে মুখ সিল করে দেয় তারা।খুন নিশ্চিত করার পর দিনই হিমাচল প্রদেশে চম্পট দেয় দুই অভিযুক্ত। সৌরভ জীবিত আছেন, এই ভীতি তৈরি করতে তাঁর মোবাইল থেকে আত্মীয়দের মেসেজও পাঠাতে থাকে মুশকান। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার কিছুদিন পর আত্মীয়রা বাড়িতে গিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে এবং তাঁদের ৬ বছরের খুদে কন্যা প্রতিবেশীদের “পাপা ড্রামের ভেতরে আছে” বলে দেওয়ার পরই সত্য সামনে আসে। পুলিশ এসে ড্রাম কেটে উদ্ধার করে পচাগলা দেহাবশেষ। এর পরই গ্রেফতার করা হয় মুশকান ও সাহিলকে।তদন্তে নেমে নীল ড্রাম, বালি, সিমেন্ট এবং চাপাতি বিক্রির দোকানদারদের সাক্ষ্য ও কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) আদালতে পেশ করে প্রসিকিউশন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এদিন সাজা ঘোষণার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে নিহত সৌরভের পরিবার। এমনকি সকালেই আদালতে দাঁড়িয়ে মুশকানের বাবা-মা জানান, “সৌরভ খুব ভাল ছেলে ছিল, অপরাধীদের ফাঁসি হলেও আমরা কোনও প্রতিবাদ করব না।” অবশেষে জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডে আইন তার কঠোরতম অবস্থান বজায় রাখল।