Hidden Stories (বাংলা)

Mumbai underworld vacuum: আজও কি দাউদ ছায়া বলিউডে? কী ভাবে ফাঁকা ময়দানে দাপাচ্ছে লরেন্স গ্যাং!

মুম্বই: একদা দাউদ ইব্রাহিম, ছোটমকান বা আবু সালেমের মতো গ্যাংস্টারদের রক্তক্ষয়ী হানাদারি আর তোলাবাজির আতঙ্কে কাঁপত মায়ানগরী মুম্বই। বিগত দুই দশক ধরে সেই কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ডের বন্দুকের নল ছিল সম্পূর্ণ নীরব। কিন্তু সম্প্রতি অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে বন্দুকবাজদের হামলার ঘটনা ফের সেই পুরনো প্রশ্নটিই সামনে এনে দিল। দাউদ বা ছোট রাজনের মতো প্রবীণ ডনরা নিষ্ক্রিয় বা জেলে বন্দি হলেও, আজও কি বলিউডের উপর থেকে কাটেনি তাদের সেই ত্রাসের ছায়া? নব্বইয়ের দশকের সেই অন্ধকার অধ্যায়কে পেছনে ফেলে এবার মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই ফাঁকা সিংহাসন দখল করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে উত্তর ভারতের অপরাধী সিন্ডিকেটগুলি।নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজার সালের গোড়ার দিকটা হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের কাছে ছিল এক ভয়াবহ আতঙ্কের সময়। মুকেশ দুগ্গল খুন (১৯৯৭), গুলশন কুমার হত্যাকাণ্ড (১৯৯৭) কিংবা রাকেশ রোশনের উপর প্রাণঘাতী হামলা, সে যুগে ফিল্মজগতের প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে প্রযোজকরা নিয়মিত গ্যাংস্টারদের নিশানায় থাকতেন। এ ছাড়া আমির খান বা আশুতোষ গোয়ারিকরের মতো তারকাদের অপহরণের ছকও কষা হয়েছিল। সেই সময় অপরাধের চোরাস্রোত এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল যে, রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে শিল্পপতি ও কলাকুশলীরা তৎকালীন পুলিশ কমিশনার এম এন সিংয়ের সঙ্গে দেখা করে মুম্বই ছেড়ে হায়দরাবাদে বলিউড সরিয়ে নেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন।তীব্র রাজনৈতিক ও চলচ্চিত্র মহলের চাপে নড়েচড়ে বসে মুম্বই পুলিশ। মহারাষ্ট্র সরকারের কঠোর হাতে দমননীতি, 'মকোকা' (MCOCA) আইনের প্রয়োগ এবং পুলিশের লাগাতার এনকাউন্টার পলিসির জেরে একে একে খতম বা কারাবন্দি হয় আন্ডারওয়ার্ল্ডের তাবড় ডনরা। লিসবন থেকে আবু সালেমের গ্রেপ্তার, বালি থেকে ছোট রাজনকে দেশে ফিরিয়ে আনা কিংবা অরুণ গভলির কারাদণ্ড, সব মিলিয়ে একসময় মুম্বইয়ের পথঘাট থেকে পুরোপুরি মুছে গিয়েছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের দাপট। পুলিশের তৎপরতায় গত দুই দশকে বলিউডও অনেকটাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল।কিন্তু পুরনো সেই খেলোয়াড়দের পতনের ফলে মুম্বইয়ের অপরাধজগতে যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, ইদানীং তা পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছে উত্তর ভারতের নতুন গ্যাংগুলি। ২০২৩ সাল থেকে পরিস্থিতি ফের বদলাতে শুরু করে। প্রথমে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় আসেন সুপারস্টার সালমান খান। তাঁর গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালানোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকিকেও খুন করে এই গ্যাং। এমনকি পরিচালক রোহিত শেট্টির মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিত্বদের কাছেও এসে পৌঁছেছে তোলাবাজির হুমকি।আর এবার অভিনেতা টাইগার শ্রফের জুহুর স্পোর্টিং ইভেন্ট থেকে ফেরার পথে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা গুলি স্পষ্ট করে দিল যে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের চরিত্র বদলালেও ত্রাসের আবহ বিন্দুমাত্র কমেনি। পুরনো সেই সিন্ডিকেটগুলোর অবসান ঘটলেও, আজ উত্তর ভারতের দুষ্কৃতী চক্রগুলি ঠিক একই কায়দায় ভয়ের সাম্রাজ্য কায়েম করে বলিউডকে কব্জা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রশ্ন একটাই, মুম্বই পুলিশ কি পারবে এই নতুন যুগের অপরাধীদের শিকড় এভাবেই উপরে ফেলতে, নাকি ফের একবার ডনদের ছায়া গ্রাস করবে রূপোলি পর্দাকে?

Mumbai underworld vacuum: আজও কি দাউদ ছায়া বলিউডে? কী ভাবে ফাঁকা ময়দানে দাপাচ্ছে লরেন্স গ্যাং!