Nandigram by election: নন্দীগ্রামে প্রার্থী জানাল বিজেপি, আজই মনোনয়ন!
কলকাতা: সব জল্পনা ও রাজনৈতিক সমীকরণের অবসান। অবশেষে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে আসা এই হাইভোল্টেজ আসনে পদ্মফুলে লড়ছেন তাঁরই প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। মঙ্গলবার সকালেই দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানতে পারেন তিনি। খবর পেয়ে্ রেয়াপাড়ার মন্দিরে গিয়ে বিশেষ পুজো দেন। শোক আর লড়াইয়ের মাঝেই তাঁকে এমন বড় দায়িত্ব দেওয়ায় বিজেপি নেতৃত্ব এবং দলীয় ‘অভিভাবক’ শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হাসিরানি। আত্মবিশ্বাসের সুরেই তিনি জানান, সংগঠন তাঁর পাশে রয়েছে এবং বড় ব্যবধানেই এই আসনে জয়ী হবেন তিনি।আজ, মঙ্গলবার দুপুরেই হলদিয়ায় মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তার আগে সকাল ১১টা নাগাদ হলদিয়ার কদমতলায় এক বিশাল জনসভা করার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। দলীয় কর্মসূচি শেষে কদমতলা থেকে বিজেপি প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রায় হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, এই জোড়া আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই নন্দীগ্রামের মাটিতেই হারিয়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাজনৈতিক মানচিত্রে মাইলফলক তৈরি করেছিলেন তিনি। ফলে শুভেন্দু আসন ছাড়ার পর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়, তাঁর এই খাসতালুকে দলের টিকিট পাবেন কে?বিজেপির অন্দরে মেঘনাদ পাল বা অঞ্জন পালের মতো বিশ্বস্ত নেতাদের নাম ঘোরাফেরা করলেও শেষ পর্যন্ত বাজি ধরা হল হাসিরানি রথের উপরেই। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তিনি কোনো অংশে কম নন। ১৯৮৮ সাল থেকে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হাসিরানি দেবী পঞ্চায়েত স্তরে অন্তত ৫ বার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে তৃণমূল স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে।ছেলের অকালমৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই এবার নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে নেমেছেন হাসিরানি রথ। আগামী ৬ অক্টোবর এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ভোটযুদ্ধে নেমে তাঁর সাফ বার্তা, “দল আমার উপর ভরসা রেখেছে, সংগঠনের কর্মীরা সঙ্গে আছেন। জয় আমাদের নিশ্চিত।” এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর ছেড়ে যাওয়া এই প্রেস্টিজ ফাইটে শুভেন্দুর বিশ্বস্ত পরিবার নন্দীগ্রামের গড় ধরে রাখতে পারে কিনা।