Asian Games 2026: মাত্র ৭০০ গ্রামের জন্য সোনা-রুপো হাতছাড়া, নিয়মের ফাঁকে সেমিতে আটকে ব্রোঞ্জ সুচিকার
নয়াদিল্লি: এশীয় এমএমএ (মিক্সড মার্শাল আর্টস)-র মঞ্চে ইতিহাস গড়ে দেশকে পদক এনে দিলেন সুচিকা তারিয়াল। মহিলাদের ট্র্যাডিশনাল ৬০ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে ভারতীয় এমএমএ-র ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় লিখলেন তিনি। তবে এই ব্রোঞ্জ জয়ের স্বস্তির মধ্যেও জড়িয়ে রইল মারাত্মক এক আক্ষেপ ও এক অদ্ভুত নিয়মের ট্র্যাজেডি। কোনও প্রতিপক্ষের নক-আউট বা বিচারকদের সরাসরি রায়ে নয়, ফাইনালের টিকিট তথা সোনা-রুপোর নিশ্চিত লড়াই থেকে সুচিকা বঞ্চিত হলেন মাত্র ৭০০ গ্রাম অতিরিক্ত ওজনের খেসারত দিয়ে!সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের তারকা হুই হুন তেও-র মুখোমুখি হয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সী সুচিকা। রুদ্ধশ্বাস সেই লড়াইয়ে দু’জনেই নিজেদের সেরাটা দেন। প্রথম রাউন্ডে সিঙ্গাপুরের প্রতিপক্ষ তাঁর বক্সিংয়ের দক্ষতায় কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয় রাউন্ডেই জুডো শৈলী কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাঘাত করেন সুচিকা। প্রতিপক্ষকে মাটিতে আছড়ে ফেলে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে নেন তিনি। সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত এক মিনিটের লড়াইয়ে। সেখানেও প্রাণপণ লড়েন ভারতীয় তারকা। তবে বাউটের শেষে রেফারি যখন বিজয়ী হিসেবে সিঙ্গাপুরের তারকার নাম ঘোষণা করেন, তখন ক্ষোভে-হতাশায় ভেঙে পড়েন সুচিকা। রেফারির হাত না ধরে রিঙে প্রতিবাদ জানান তিনি।সুচিকার অসম্মতি এবং সিদ্ধান্তের অসচ্ছতা দেখে সঙ্গে সঙ্গেই লড়াইয়ের ফল চ্যালেঞ্জ করে ভারতের এমএমএ ফেডারেশন। নিয়ম অনুযায়ী ১০০ ডলার ফি দিয়ে ভিডিও পর্যালোচনার আবেদন জানানো হয়। তিন বিচারকের পরিবর্তে ১০ জন অভিজ্ঞ জুরি সদস্যের প্যানেল পুরো বাউটের ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করার পর জানান, ম্যাচটি প্রকৃতপক্ষে ট্রাই বা 'ড্র' হয়েছে।কিন্তু আসল নাটক শুরু হয় এর পরেই ! ড্র হওয়ার পর এশীয় এমএমএ-র জটিল টাই-ব্রেকার নিয়ম কার্যকর করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ ড্র হলে প্রথমে দেখা হয় দুই অ্যাথলিটের ওয়ার্নিং বা সতর্কবার্তা সমান কি না। তা সমান থাকলে দেখা হয় তাঁদের ম্যাচের আগের ওজন। সকালে পরিমাপ করা ওজনে দেখা যায়, সুচিকার চেয়ে সিঙ্গাপুরের প্রতিপক্ষ হুই হুন তেও প্রায় ৭০০ গ্রাম হালকা ছিলেন! আর এই নিয়মের ফাঁকেই বাজিমাত করেন সিঙ্গাপুরের প্রতিযোগী। ম্যাচ ড্র হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৭০০ গ্রাম কম ওজনের সুবাদে ফাইনালের টিকিট পান তেও, আর ভারতের সুচিকাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ব্রোঞ্জ পেয়েই।আইচি-নাগোয়ায় এই অনন্য নজির গড়ার পথে কোয়ার্টার ফাইনালে মঙ্গোলিয়ার আলতানচিমেগ বায়গালমাকে ২-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম ভারতীয় হিসেবে এশিয়ান গেমসের এমএমএ পদক নিশ্চিত করেছিলেন সুচিকা। জাতীয় স্তরের প্রাক্তন এই জুডোকা ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ভারত প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ২০২৪ সালে জিউ-জিৎসুতে বিশ্বখিতাব জেতেন। রিংয়ের পারফরম্যান্সে ড্র করে মাত্র ৭০০ গ্রামের জন্য ফাইনাল হাতছাড়া হলেও, সুচিকার এই ঐতিহাসিক পদক ভারতীয় কমব্যাট স্পোর্টসে এক নতুন আশার আলো জাগাল।