Suvendu Adhikari: 'পুজোর আনন্দ নষ্টের চক্রান্ত রুখতে হবে', সতর্কবার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, লালবাগ থেকে একগুচ্ছ উপহার
বহরমপুর: শারদোৎসবের আবহেই সীমান্তঘেঁষা জেলা মুর্শিদাবাদ থেকে রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার পুজোর পঞ্চমীর দিনে লালবাগের বুধাসপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির মণ্ডপ উদ্বোধনে গিয়ে তিনি সাফ জানান, কিছু অশুভ শক্তি দুর্গাপুজোর আবহ ও আনন্দকে নষ্ট করার চেষ্টা চালাতে পারে। তাই পুলিশ-প্রশাসন এবং পুজো উদ্যোক্তা, উভয় পক্ষকেই আগাম সতর্ক থাকতে হবে। এই সতর্কবার্তার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ বিধানসভা এলাকাকে দত্তক নেওয়ার ধাঁচে পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সীমান্ত সুরক্ষায় একগুচ্ছ মেগা উপহারের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।উৎসবের মরসুমে সীমান্ত জেলায় দাঁড়িয়ে নিরাপত্তার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি সনাতনী ঐতিহ্যের প্রসারে রাজ্য সরকারের ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। শুভেন্দু জানান, তাঁর সরকার আসার পর রাজ্যে ১২ হাজার নতুন পুজো শুরু হয়েছে এবং চলতি বছরে রাজ্য জুড়ে প্রায় ৫৮ হাজার পুজো কমিটিকে বিশেষ অনুদান দেওয়া হয়েছে। শুধু মুর্শিদাবাদ জেলাতেই নতুন করে ৮০০-র বেশি পুজো অনুমোদন পেয়েছে। সব লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ পরিষেবা বিনামূল্যে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সনাতনীদের ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে বাঁচিয়ে রাখতে যারা পুজো করছেন, তাঁদের সকলকেই অভিনন্দন।"উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের ডেকে নিয়ে লালবাগ ও গোটা মুর্শিদাবাদ বিধানসভার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসককে অবিলম্বে জমি চিহ্নিতকরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “এই বিধানসভার দায়িত্ব আমার। ডিসেম্বরের মধ্যেই উন্নয়নমূল কাজের রূপরেখা শেষ করতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী যে সব বড় ঘোষণার কথা জানান, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:শিক্ষা ও চিকিৎসা: এলাকায় নতুন আইটিআই কলেজ তৈরি, স্থানীয় কলেজে 'গার্লস কলেজ' ও 'মর্নিং শিফট' চালু করা, মহকুমা হাসপাতালের বেড বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সস্তায় ওষুধ পাওয়ার জন্য 'প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র' স্থাপন।পর্যটন ও গঙ্গাভাঙন রোধ: পর্যটন বৃদ্ধিতে লালবাগের ঝিল সংস্কার এবং গঙ্গাভাঙন রুখতে কেন্দ্রের সঙ্গে আগামী ২৭ অক্টোবর যৌথ বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারণ।বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই জেলার অন্যতম সমস্যা গরু পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিএসএফ ও জেলা পুলিশ যৌথ ভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে, ফলে অনুপ্রবেশ ও গরু পাচার এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত ও প্রায় বন্ধ। একই সঙ্গে 'নেশামুক্ত মুর্শিদাবাদ' গড়ার আহ্বান জানান তিনি। সামাজিক ব্যাধি দূর করতে বাল্যবিবাহকে ঘোর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে বন্ধ করার কড়া আবেদন জানান প্রশাসনিক প্রধান।