টেক্সাসে শ্যুটআউট: নেপথ্যে কি ইরান-আমেরিকা সংঘাত? অস্টিনের পানশালায় নিহত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছাত্রী-সহ ৩
অস্টিন, টেক্সাস: আমেরিকার টেক্সাসে এক ভয়াবহ বন্দুকবাজের হামলায় প্রাণ হারালেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মেধাবী ছাত্রী-সহ মোট তিনজন। গত রবিবার রাতে অস্টিন এলাকার একটি জনপ্রিয় বিয়ার গার্ডেনে এই ঘটনাটি ঘটে। তবে, এই সাধারণ অপরাধমূলক ঘটনার আড়ালে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা FBI।[TECHTARANGA-POST:6970]অস্টিনের ওয়েস্ট সিক্সথ স্ট্রিট এলাকায় অবস্থিত জনপ্রিয় পানশালা 'Buford's'-এ গত রবিবার রাতে এক বন্দুকধারী অতর্কিতে হামলা চালায়। এলোপাথাড়ি গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও ১৪ জন। হামলাকারী ৫৩ বছর বয়সী এনডিয়াগা ডিয়াগনে (Ndiaga Diagne) পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হয়।তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। সংবাদসংস্থা এপি (AP)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলার সময় আততায়ী একটি হুডি পরে ছিল যাতে ইরানের পতাকা আঁকা ছিল এবং তাতে লেখা ছিল ‘Property of Allah’। বর্তমানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি চলছে, এই হামলার সঙ্গে তার সরাসরি কোনও সম্পর্ক আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে এফবিআই। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনও পরিকল্পিত নাশকতামূলক কাজ হতে পারে।[TECHTARANGA-POST:6968]এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেধাবী ছাত্রী সবিতা সান। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের (University of Texas) ‘ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস অ্যান্ড ইকোনমিক্স’-এর ছাত্রী ছিলেন। সবিতা ম্যাককম্বস স্কুল অফ বিজনেসের একজন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। তাঁর অধ্যাপকদের ভাষায়, তিনি ছিলেন একজন ‘সুপারস্টার স্টুডেন্ট’। আগামী মে মাসেই তাঁর স্নাতক স্তর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই অকালমৃত্যু তাঁর পরিবার ও সহপাঠীদের স্তব্ধ করে দিয়েছে। সবিতা ছাড়াও জর্জে পেডারসন (৩০) এবং রাইডার হ্যারিংটন (১৯) নামে আরও দুই যুবক এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:6967]অস্টিনের সিক্সথ স্ট্রিট এলাকাটি সাধারণত তার বর্ণময় নৈশজীবনের জন্য পরিচিত। সবিতাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেও এটি অত্যন্ত কাছে। এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এফবিআই এবং স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে, যাতে এই ঘটনার প্রকৃত মোটিভ এবং ইরানের পতাকাবাহী হুডির রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়।