বাংলাদেশ: নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সংসদ ভবনের সামনে এনসিপির বিক্ষোভ
ঢাকা: বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার মধ্যেই সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এতে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে কি না—এ প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় এবং অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়।নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। এর মধ্যে রয়েছে মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর পর্যন্ত এলাকা, বাংলামোটর লিংক রোড থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত, পান্থপথ থেকে গ্রিন রোড হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত এবং শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ পর্যন্ত মিরপুর রোডের অংশ। পাশাপাশি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিজয় সরণি, ইন্দিরা রোডসহ সংসদ ভবনের আশপাশের সব সড়ক ও গলিপথও নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।এদিকে নিষেধাজ্ঞা জারির পরও বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন।তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে গণভোট অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা।প্রশ্ন উঠেছে, যখন একই এলাকায় সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ছিল, তখন কীভাবে এই কর্মসূচি পালন করা হলো। অন্য রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে যেখানে এ ধরনের কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি, সেখানে এনসিপির এই অবস্থান কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় সমালোচনা দেখা দিয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য ভিন্নভাবে আইন প্রয়োগ করা হলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য প্রশ্ন তৈরি করে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার দিনেই এমন পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা