গীতা পাঠে জামায়াত এমপির না! সাংসদের ফতোয়া উপেক্ষা করলেন নারী ইউএনও
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ করা যাবে না— জামায়াত সাংসদের এমন মৌখিক নির্দেশ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজশাহীর তানোর উপজেলায়। রাজশাহী-১ আসনের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের এই নির্দেশিকা ঘিরে বিতর্ক শুরু হলেও, শেষ পর্যন্ত সরকারি নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান। সাংসদের নির্দেশ উপেক্ষা করেই কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা পাঠ করানো হয় এদিনের অনুষ্ঠানে।[TECHTARANGA-POST:7607]তানোর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন আগেই ইউএনও নাঈমা খানকে মোবাইল ফোনে সরাসরি নির্দেশ দেন সাংসদ মুজিবুর রহমান। তাঁর দাবি ছিল, ২৬শে মার্চের অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র কোরআন তিলাওয়াত করতে হবে, কোনোভাবেই গীতা পাঠ করানো যাবে না। বিষয়টি নিয়ে গত ২৫শে মার্চ উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতেই প্রশ্ন তোলেন ইউএনও। তিনি সরাসরি জানতে চান, সাংসদের এমন নির্দেশের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের করণীয় কী? জবাবে উপজেলা জামায়াত আমির মাওলানা আলমগীর হোসেন জানান, রাষ্ট্রীয় নিয়মে যা আছে, সেটাই করা উচিত।[TECHTARANGA-POST:7598]সাংসদের সাম্প্রদায়িক ফতোয়াকে আমল না দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার তানোরে মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথা মেনে কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা পাঠের ব্যবস্থা করেন ইউএনও নাঈমা খান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানান, "সাংসদ স্যার গীতা পাঠ না করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় নিয়মেই পালন করতে হবে। তাই আমরা দুই ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমেই অনুষ্ঠান শুরু করেছি।"বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যাওয়ায় ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে জামায়াত শিবির। উপজেলা জামায়াত আমিরের দাবি, সাংসদ সম্ভবত ধর্মীয় সভার কথা বলেছিলেন, স্বাধীনতা দিবসের কথা নয়। যদিও ইউএনও-র বক্তব্যে স্পষ্ট যে, নির্দেশটি জাতীয় দিবস কেন্দ্র করেই ছিল। এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সাংসদ মুজিবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। সাম্প্রদায়িক উস্কানি সরিয়ে রেখে প্রশাসনের এই নিরপেক্ষ অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ।