মাদ্রাসা–মন্তব্যে অগ্নিমিত্রার বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের প্রস্তাব, বিধানসভায় TMC–BJP তীব্র সংঘাত
কলকাতা: মাদ্রাসা সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় স্বাধিকারভঙ্গের নোটিশ পেলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের প্রস্তাব পেশ করেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, ওই প্রস্তাবটি বিধানসভার প্রিভিলেজ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।এই প্রস্তাব পেশ ঘিরেই শুক্রবারের পর শনিবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে তীব্র বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে একসময় বিজেপি বিধায়করা ওয়াকআউট করে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।[TECHTARANGA-POST:6341]কী মন্তব্যে বিতর্ক?শুক্রবার বিধানসভায় বাজেট সংক্রান্ত আলোচনার সময় অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা খাতে বাজেট বরাদ্দ ১০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই বরাদ্দ কি শিক্ষার জন্য, না কি অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে?”তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “মাদ্রাসায় পড়ে কেন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে না? কেন কেউ কেউ এখানে পড়ে অপরাধের দিকে ঝুঁকছে?”এই মন্তব্যের পরই বিধানসভায় প্রবল প্রতিবাদ শুরু হয়।তৃণমূলের তীব্র আপত্তিঅগ্নিমিত্রার বক্তব্যের কড়া নিন্দা করেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “স্বাধীনতা আন্দোলনে বহু সংখ্যালঘু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আমরা কেউ ক্রিমিনাল নই।”ফিরহাদ হাকিম আরও প্রশ্ন তোলেন, “এপিজে আব্দুল কালাম কি ক্রিমিনাল? কাজী নজরুল ইসলাম কি ক্রিমিনাল? এই মন্তব্যের জন্য আপনাকে ক্ষমা চাইতে হবে।”অগ্নিমিত্রার পাল্টা জবাবএর জবাবে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অবদান নিয়ে তাঁর কোনও দ্বিমত নেই। তবে তাঁর অভিযোগ, “এই সরকার সংখ্যালঘুদের নামে অপরাধীদের রক্ষা করছে এবং রাজ্যে হিংসা বাড়ছে।”তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “এই রাজ্যে এত হিংসার ঘটনা কেন বারবার শুক্রবারেই ঘটে?”[TECHTARANGA-POST:6337]অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপসংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের বিরোধিতা করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিধায়কদের বিরত থাকার নির্দেশ দেন।এরই মধ্যে শনিবার অগ্নিমিত্রা পালের বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিশ পেশ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপি বিধায়করা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।সব মিলিয়ে, মাদ্রাসা–মন্তব্য ঘিরে স্বাধিকারভঙ্গের প্রস্তাব রাজ্য বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলল।