আলিপুরদুয়ার: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে বিজেপি। জেলায় জেলায় চলছে ‘পরিবর্তন যাত্রা’। কিন্তু সেই যাত্রার মঞ্চেই এবার চরম অস্বস্তিতে পড়তে হলো গেরুয়া শিবিরকে। সৌজন্যে খোদ কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। শনিবার আলিপুরদুয়ারের জটেশ্বরে আয়োজিত সভায় নিজের দলেরই প্রথম সারির নেতাদের নাম ভুল উচ্চারণ করে রীতিমতো হাসির খোরাক হলেন তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মুখে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক হয়ে গেলেন ‘নিশিকান্ত’, আর ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মনের পদবি বদলে গিয়ে দাঁড়াল ‘বমন’-এ! মন্ত্রীর এই অদ্ভুত বাংলা উচ্চারণ শুনে মঞ্চে উপস্থিত নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রোতা— সকলেই কার্যত তাজ্জব হয়ে যান।শনিবারের এই সভায় নিশীথ প্রামাণিক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা, শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ এবং জেলা বিজেপির সভাপতি মিঠু দাস। এহেন হেভিওয়েট নেতাদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই হোঁচট খাওয়া নিয়ে জেলা রাজনৈতিক মহলে এখন চলছে জোরদার মস্করা। যদিও ভাষণের শুরুতেই প্রহ্লাদ যোশী রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে উন্নয়নের সেতু বন্ধন করার বদলে বারবার বাধার সৃষ্টি করছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বিগত কংগ্রেস সরকারের চেয়ে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাকে অনেক বেশি আর্থিক সাহায্য করেছে। সেই সঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও কাটমানি খাওয়ার অভিযোগেও সরব হন তিনি।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় নেতারা যখন রাজ্যে এসে স্থানীয় জননেতাদের নামই ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারেন না, তখন তা দলের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আলিপুরদুয়ারের এই ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্বকে যথেষ্ট কোণঠাসা হতে হয়েছে। মঞ্চে উপস্থিত নেতারা যখন একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন, তখন স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই উচ্চারণ বিভ্রাট তাঁদের কাছে কতটা অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে জনসভা শেষে উন্নয়নের বার্তার চেয়েও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই ‘নাম-বিভ্রাট’ নিয়েই বেশি চর্চা চলছে উত্তরবঙ্গের এই জনপদে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার