Bageshwar Baba:‘পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার আমি কে?’ চরম বিতর্কের মুখে স্কটল্যান্ড থেকে সুর নরম বাগেশ্বর বাবার, দাবি ‘আমিও তো বাঙালি!’
কলকাতা: দুর্গাপুজোয় বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে বিতর্কিত ‘পাখণ্ডী’ মন্তব্য করে রাজ্যজুড়ে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। রাজনৈতিক দল থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেই তাঁর মন্তব্যের বিরুদ্ধে একসুরে তোপ দেগেছিলেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এবার সাতসমুদ্দুর পারের স্কটল্যান্ড থেকে সুর বদল করলেন তিনি। নিজের বক্তব্যের দায় সংবাদমাধ্যম ও সমালোচকদের ওপর চাপিয়ে সাফাই দেওয়ার পাশাপাশি নিজেকে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের আদর্শে বিশ্বাসী ‘বাঙালি’ বলেও দাবি করলেন এই ধর্মগুরু।সম্প্রতি বাংলা সফরে এসে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সুরেই সুর মিলিয়েছিলেন বাগেশ্বর বাবা। নবরাত্রির সময় মণ্ডপের আশেপাশে মাছ-মাংস বিক্রি ও খাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, পুজোয় যাঁরা আমিষ খান তাঁরা আসলে ধার্মিক নন, ভণ্ড ও ‘পাখণ্ডী’। এমনকি তাঁদের সমাজ থেকে বয়কট করার ডাকও দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলা। বাঙালি সংস্কৃতিতে আঘাতের অভিযোগে রাজ্যের শাসক-বিরোধী সব মহল থেকেই ধিক্কার ওঠে। খোদ বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে দলগত দূরত্ব বজায় রাখেন। ফলে ধর্মগুরু হিসেবে বাংলায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়।[TECHTARANGA-POST:12530]এই চরম বিতর্কের মুখে পড়ে এবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে এক ভিডিও বার্তায় সুর নরম করলেন ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পিছু হটে তিনি বলেন, কার খাদ্যাভ্যাস কী হবে তা ঠিক করার তিনি কেউ নন। তাঁর কথায়, সব জীবের বাঁচার অধিকার রয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে বলিপ্রথা তাঁর পছন্দ নয়। তবে কেউ যদি নিজের বাড়িতে মাছ-মাংস খান, তবে তা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তিনি শুধুমাত্র ধার্মিক ভাবাবেগের কথা ভেবে পুজোর মণ্ডপের ভেতর আমিষ নিয়ে যেতে বারণ করেছিলেন। বিতর্ক ধামাচাপা দিতে বাঙালি আবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে বাগেশ্বর বাবা আরও দাবি করেন, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এবং স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর আদর্শ, সেই সূত্রে তিনিও একজন ‘বাঙালি’। তবে বঙ্গবাসীকে শান্ত করতে তাঁর এই হঠাৎ বাঙালি সাজার কৌশল কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর চর্চা চলছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ