ফ্রিজ হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আংশিক ছাড়, কালীঘাট তৃণমূলকে অনুমতি দিল হাই কোর্ট
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় সাময়িক স্বস্তি পেল কালীঘাট তৃণমূল। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই স্পেশাল অফিসারের তত্ত্বাবধানেই কালীঘাট তৃণমূল সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবে।[TECHTARANGA-POST:10766]এনকাউন্টার ইস্যুতে বিরোধীদের সমালোচনায় দিলীপ ঘোষআদালত জানিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেশাল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন সুব্রত তালুকদার। অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য যাঁরা অনুমোদিত, তাঁরাই শুধুমাত্র এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। তবে প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পেশাল অফিসারের কাউন্টার সই বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনের খরচের বিস্তারিত হিসাব আদালতকে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এদিন শুনানিতে বিদ্রোহী শিবির, অর্থাৎ ঋতব্রত তৃণমূলকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচনে লড়ার জন্য এই অ্যাকাউন্ট থেকেই টাকা তোলা হয়েছিল। তখন কোনও আপত্তি তোলা হয়নি। ফল প্রকাশের পর কেন এই অভিযোগ উঠছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে আদালত।[TECHTARANGA-POST:10728]কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে এদিন সওয়াল করেন আইনজীবী মনু সিংভি। তাঁর প্রশ্ন ছিল, শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা যায় কি না। তিনি আদালতে দাবি করেন, এমন পদক্ষেপের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ প্রয়োজন। পাশাপাশি যাঁরা ২৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার পর সন্দেহ প্রকাশ করছেন, তাঁরা কীভাবে পরে অ্যাকাউন্টের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন, সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবিরের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী বিশ্বনাথ দাস। তাঁর দাবি, “আমরাই আসল তৃণমূল। এই অ্যাকাউন্ট আমরা ব্যবহার করি। তাই অন্য কেউ এর ব্যবহার দাবি করতে পারে না।” অ্যাকাউন্ট অপব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয় তাঁদের পক্ষ থেকে।[TECHTARANGA-POST:10719]তবে আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “আপনারা তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে জিতেছেন। তাহলে ফ্যাক্ট বদলানোর পরই কেন এই অভিযোগ? ৪ মে বা ১৮ জুনের আগে কেন প্রশ্ন তোলেননি?” দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর সব পক্ষের বক্তব্য শুনে কালীঘাট তৃণমূলকে শর্তসাপেক্ষে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। আপাতত স্পেশাল অফিসারের নজরদারিতেই চলবে অ্যাকাউন্টের সমস্ত লেনদেন।