Hidden Stories (বাংলা)

চাকরির নামে লাখ লাখ টাকার জালিয়াতি! ভুয়ো নিয়োগপত্র দিতেই পর্দাফাঁস, বাঁকুড়ায় শ্রীঘরে ২ হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা!

বাঁকুড়া: চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বড়সড় আশ্বাস, বিনিময়ে ঘাম ঝরানো লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং শেষে যুবকের হাতে ভুয়ো নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে একটি আস্ত পরিবারকে সর্বস্বান্ত করা! বঙ্গে সরকার বদল হলেও চাকরির নামে প্রতারণার এই চেনা জলছবি এবার সামনে এল খোদ বাঁকুড়া জেলা থেকে। আর এই মারাত্মক জালিয়াতির কীর্তি ফাঁস হতেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন গঙ্গাজলঘাটি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা পল্লব পাণ্ডে। শুধু তাই নয়, একই দিনে তোলাবাজি ও আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাঁকুড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পিংকি চক্রবর্তীর স্বামী তথা প্রভাবশালী নেতা বাপি চক্রবর্তীও। রবিবারের এই জোড়া গ্রেফাতারিকে কেন্দ্র করে গোটা জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9440]পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের এক সাধারণ পরিবারের ছেলেকে সরকারি চাকরি করে দেওয়ার টোপ দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা পল্লব পাণ্ডে। গরিব পরিবারটি ধারদেনা করে ধাপে ধাপে তিন লক্ষাধিক টাকা পল্লবের হাতে তুলে দেয়। এরপর ওই যুবকের হাতে একটি সরকারি নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়। সেইমতো যুবকটি পুরুলিয়ার একটি নির্দিষ্ট সরকারি দপ্তরে কাজেও যোগ দেন। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ কাজ করার পরই আসল টুইস্ট সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর যখন সেই নিয়োগপত্রটি যাচাই বা ভেরিফিকেশন করে, তখন দেখা যায় সেটি এক্কেবারে জাল! সঙ্গে সঙ্গে কাজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় ওই যুবককে। চাকরির স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ায় এবং সর্বস্বান্ত হয়ে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবারটি। রবিবার ধৃত পল্লবকে বাঁকুড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।[TECHTARANGA-POST:9434]পল্লব পাণ্ডের জালিয়াতি কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার বাঁকুড়া জেলা পুলিশের দ্বিতীয় ধাক্কাটি লাগে বাঁকুড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। বেআইনিভাবে এক ব্যক্তিকে আটকে রাখা এবং গায়ের জোরে ৩ লক্ষ টাকা আদায়ের জন্য মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল নেতা বাপি চক্রবর্তীকে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাতরঞ্জন গুপ্ত নামে এক ব্যক্তি বাঁকুড়া সদর থানায় বাপির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালে তাঁকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আটকে রেখে ভয় দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন এই প্রভাবশালী নেতা। সেই পুরনো মামলার তদন্তে নেমেই রবিবার বাপি চক্রবর্তীকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:9411]বাঁকুড়ার বুকে একই দিনে তৃণমূলের দুই নেতার এই শ্রীঘর যাত্রায় ব্যাপক কামড় বসিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের কটাক্ষ, “এতদিন ধরে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছিল এই তৃণমূল নেতারা। এবার একে একে সবার মুখোশ খুলে আসল সত্যিটা জনগণের সামনে আসতে শুরু করেছে।” বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা জঙ্গলমহলে তৃণমূলের সেই চেনা “চাকরি বাণিজ্যের সংস্কৃতি”-রই আরও একটা জ্বলন্ত উদাহরণ। যদিও এই জোড়া গ্রেপ্তারি নিয়ে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত অফিশিয়ালি কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত পল্লব এবং বাপি— দু’জনকেই হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের নেপথ্যে আর কোনও প্রভাবশালী মাথার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ম্যারাথন জেরা শুরু করা হয়েছে।

চাকরির নামে লাখ লাখ টাকার জালিয়াতি! ভুয়ো নিয়োগপত্র দিতেই পর্দাফাঁস, বাঁকুড়ায় শ্রীঘরে ২ হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা!

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার