ভবানীপুরের ‘মিনি ইন্ডিয়া’য় দিদির ম্যাজিক! কোন ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন মমতা?
ভবানীপুর: উত্তর থেকে দক্ষিণ - রাজ্যের জেলায়-জেলায় প্রচার সেরে এবার নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে কোমর বেঁধে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোটের আগে ভবানীপুরের ‘মিনি ইন্ডিয়া’ মেজাজকে সঙ্গে নিয়ে জনসংযোগ সারলেন তৃণমূলনেত্রী। রবিবার সন্ধ্যায় লেডিজ পার্ক এলাকায় শিখ, মুসলিম, বিহারি ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর খোলাখুলি আলাপচারিতা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের।[TECHTARANGA-POST:8233]ভোটের লড়াইয়ে কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ মমতা। এদিন পাশের আবাসনগুলিতে ঢুকে বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। গত পাঁচ বছরে নিজের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি আরও কীভাবে পরিষেবা উন্নত করা যায়, তা নিয়ে ভোটারদের মতামত জানতে চান। তবে, সবথেকে চমকপ্রদ বিষয় ছিল তাঁর স্পষ্টবাদিতা। রুফটপ রেস্তরাঁ বন্ধ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এদিন নিজেই মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী।[TECHTARANGA-POST:8211]ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, “রুফটপ রেস্তরাঁ নিয়ে আপনারা আমায় ভুল বুঝেছিলেন। নিরাপত্তার খাতিরেই ববিকে (ফিরহাদ হাকিম) বলেছিলাম নির্দিষ্ট নিয়ম করতে। আপনাদের ব্যবসার ক্ষতি হোক আমি কখনও চাইনি। তেমন হয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।” মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ক্ষমা’ চাওয়ার ভঙ্গি ও আন্তরিকতায় আপ্লুত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।[TECHTARANGA-POST:8217]ভবানীপুরের শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মনপ্রীত সিং সাধু থেকে শুরু করে বিহারি সমাজের সভানেত্রী মমতা সিং - সকলেই একবাক্যে স্বীকার করছেন দিদির সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা। তাঁদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাত-ধর্ম দেখেন না, দেখেন উন্নয়ন। স্থানীয় কাউন্সিলর শামিম রেহানা খানের দাবি, “দিদির উপস্থিতিই কর্মীদের নতুন শক্তি দিয়েছে। সাধারণ মানুষ এবার ঢেলে ভোট দেবে।”[TECHTARANGA-POST:8141]অনেকেই তাঁকে অনুযোগের সুরে বলেছিলেন, “দিদি, অনেক দিন আসেননি।” হাসিমুখে তারও জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনসংযোগের এই ‘পার্সোনাল টাচ’ কি ২৯ এপ্রিল ভবানীপুরের ইভিএমে বড় ব্যবধান নিশ্চিত করবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।