ভারতে বসে দেখা যাবে না ফুটবল বিশ্বকাপ? সম্প্রচার নিয়ে নজিরবিহীন ডামাডোল!
নয়াদিল্লি: ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে হাতে আর মাত্র ৫০ দিনের মতো বাকি। অথচ, ভারতের বাজারে এখনও পর্যন্ত কোনও সংস্থাই বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে আগ্রহ দেখায়নি! কোটি-কোটি ফুটবল-ভক্তদের জন্য এটি অত্যন্ত দুঃসংবাদ। প্রশ্ন উঠছে, ১১ জুন থেকে আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে চলা এই বিশ্বযুদ্ধ কি তবে ভারতের টিভি বা মোবাইলে দেখা যাবে না?[TECHTARANGA-POST:8281]ফুটবল বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। কিন্তু, বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়ের পার্থক্য। আমেরিকা ও মেক্সিকোয় খেলা হওয়ায় অধিকাংশ ম্যাচ ভারতীয় সময় রাত ১২টা, রাত ৩টে বা ভোর ৫টার পর। ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো বড় দলগুলির খেলাও রয়েছে মাঝরাতে। এই অসময়ে দর্শকের সংখ্যা কম থাকার আশঙ্কায় বিজ্ঞাপনদাতারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। একটি বিজ্ঞাপন থেকে সন্ধ্যায় যে আয় হয়, মাঝরাতে তা প্রায় ১০ গুণ কমে যায়। ফলে বিপুল টাকা দিয়ে স্বত্ব কিনে লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয় বলে মনে করছে সোনি বা জিয়োস্টার-এর মতো বড় সংস্থাগুলি।[TECHTARANGA-POST:8280]পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও চাপে। শুরুতে ২০২৬ ও ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের জন্য ৯৩৮ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। কেউ রাজি না হওয়ায় সেই দাম কমিয়ে ৩২৮ কোটি টাকা করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, দর কষাকষি করে দাম ২৩৪ কোটিতে নামিয়ে আনা হতে পারে। তবুও বাজার থমথমে। আইপিএলে একটি ম্যাচের জন্য যেখানে ১১৮ কোটি টাকা খরচ হয়, সেখানে পুরো বিশ্বকাপের জন্য এত কম টাকাতেও কেউ এগিয়ে না আসায় ফুটবলের বাজার নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।[TECHTARANGA-POST:8278]বর্তমানে ভারতীয় ক্রীড়া সম্প্রচারের বাজারে বড় শক্তির বিন্যাস বদলেছে। জিয়ো ও স্টার এখন এক ছাতার তলায়। ফলে প্রতিযোগিতাও কমেছে। ফিফার সামনে এখন বিকল্প খুব কম। বেসরকারি চ্যানেলগুলি শেষ পর্যন্ত মুখ ফিরিয়ে নিলে একমাত্র উপায় হবে সরকারি চ্যানেল দূরদর্শন বা প্রসার ভারতী। এর আগে মহিলাদের ফুটবল বিশ্বকাপও এভাবেই দেখানো হয়েছিল।[TECHTARANGA-POST:8274]তবে যদি শেষ পর্যন্ত কোনও রফাসূত্র না মেলে, তবে আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে এটি হবে এক বড় বিপর্যয়। ভারতের মতো বিশাল ফুটবল-বাজার যদি সম্প্রচারহীন থাকে, তাহলে ফিফার সম্মান যেমন ধুলোয় মিশবে, তেমনি স্বপ্নভঙ্গ হবে লক্ষ-লক্ষ ফুটবল পাগল বাঙালি তথা ভারতীয়েরও।