কলকাতাঃ শরতের আকাশ জানান দিচ্ছে যে পুজোর আর বেশিদিন বাকি নেই। তার সঙ্গে শহরজুড়ে জোরকদমে চলছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার পুজো মণ্ডপগুলি ধীরে ধীরে সেজে উঠছে নতুন সাজে। এবার দক্ষিণ কলকাতার বেহালা ও হরিদেবপুরের তিন পরিচিত পুজোও দর্শকদের জন্য নিয়ে আসছে তিন রকমের ভাবনা। বড়িশা সার্বজনীন, বেহালা নতুন দল এবং হরিদেবপুর ৪১ পল্লীর মণ্ডপে কোথাও উঠে আসছে বাংলার উৎসব-ঐতিহ্য, কোথাও ফিরছে হারিয়ে যাওয়া শৈশব, আবার কোথাও ফুটে উঠছে প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প।হারিয়ে যাওয়া শৈশব ফিরছে ‘তালপাতার সেপাই’-এর হাত ধরেএবার ৭৮ বছরে পা দিয়েছে বেহালার ঐতিহ্যবাহী বড়িশা সার্বজনীন। ‘আশিতে আসিও ৮ এর তরে’ বার্তাকে সামনে রেখে এ বার তাদের থিম হারিয়ে যেতে বসা বাংলার লোকখেলনা। শিল্পী বাপাই সেনের পরিকল্পনায় মণ্ডপের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে ‘তালপাতার সেপাই’।একসময় গ্রামবাংলার মেলা কিংবা পাড়ার গলিতে বাচ্ছাদের হাতে দেখা যেত কাঠ, তালপাতা ও সুতো দিয়ে তৈরি নানা খেলনা। সময়ের সঙ্গে স্মার্টফোন, আধুনিক গ্যাজেটের দাপটে হারিয়ে গেছে সেই পরিচিত খেলনাগুলি। সেই পুরনো শৈশবের স্মৃতিকেই মণ্ডপে ফিরিয়ে আনছে বড়িশা সার্বজনীন। প্রবীণদের কাছে এই আয়োজন ফিরিয়ে আনতে পারে নস্টালজিয়া, আবার নতুন প্রজন্মও পরিচিত হতে পারে বাংলার লোকশিল্পের সঙ্গে।‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’, মণ্ডপজুড়ে বাংলার উৎসব-ঐতিহ্যের রঙবেহালা নতুন দলের এ বারের থিম ‘পার্বণ’। ৬১ বছরে পা দিল তাঁদের পুজো। শিল্পী সোমনাথ তামালির ভাবনায় তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। নবান্ন, পয়লা বৈশাখ, লক্ষ্মীপুজো, ভাইফোঁটা-সহ বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের নানা মুহূর্ত ফুটে উঠবে মণ্ডপের কোলাজ ও সূক্ষ্ম শিল্পকর্মে। বাংলার উৎসবের যে দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময় পরম্পরা রয়েছে, সেটাকেই এক ছাদের নীচে তুলে ধরার চেষ্টা করছে নতুন দল। পরিচিত ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’-এর ভাবনাকে তাই এবার মণ্ডপের শিল্পে নতুন করে দেখা যাবে।[TECHTARANGA-POST:13391]‘দ্বৈত’-এ উঠে আসবে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের লড়াইয়ের গল্প হরিদেবপুর ৪১ পল্লী এবার ৬৯তম বর্ষে পা দিয়েছে। তাদের থিম ‘দ্বৈত’। শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যার ভাবনায় তৈরি হচ্ছে এই মণ্ডপ, যেখানে জায়গা পাচ্ছে তৃতীয় লিঙ্গ বা বৃহন্নলা সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন ও সামাজিক বাস্তবতা।সমাজের মূলস্রোতে থেকেও দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, কুসংস্কার এবং নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় এই সম্প্রদায়ের মানুষদের। তাঁদের সেই জীবনসংগ্রামকেই শিল্পের মাধ্যমে সামনে আনতে চাইছে ৪১ পল্লী। ‘দ্বৈত’-এর ভাবনায় একদিকে রয়েছে মানুষের সমান অধিকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে সমাজের একাংশের দৃষ্টিভঙ্গি। এই মণ্ডপের মাধ্যমে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের আরও সম্মানের সঙ্গে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার বার্তা তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য।