ভোট বিপর্যয়ের পর প্রথমবার রাস্তায় নামছেন অভিষেক! শনিবারেও কি অপেক্ষা করছে বড় চমক?
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত বিপর্যয়ের পর অবশেষে দীর্ঘ নীরবতা ভাঙতে চলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন মেটার পর এই প্রথমবার বড়সড় কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চলেছেন তিনি। তৃণমূল সূত্রের খবর, ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের যে সমস্ত কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই শনিবার রাস্তায় নামছেন অভিষেক। তবে দলের অন্দরে যখন তাঁকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধছে, তখন এই সফর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।শনিবারের এই কর্মসূচিতে অভিষেকের মূল গন্তব্য সোনারপুর দক্ষিণ এবং বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকা। সেখানে ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার হওয়া তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকার এবং বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। উল্লেখ্য, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের বৈঠক এবং সমাজমাধ্যমে নিট বা সিবিএসই-র মতো জাতীয় স্তরের ইস্যুতে সরব হওয়া ছাড়া অভিষেককে সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। দলের এই শোচনীয় পরাজয়ের পর যখন চারদিকে তৃণমূল কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন কেন অভিষেক মাঠে নামছেন না— তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। এমনকি বেলেঘাটের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যেই অভিষেকের এই অনুপস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। ঘটনাচক্রে, শনিবার নিজের প্রথম কর্মসূচিতেই সেই বেলেঘাটায় পা রাখছেন অভিষেক, যা নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।এই মুহূর্তে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ বেশ জটিল। দলের এই ভরাডুবির জন্য বহু নেতা ও জনপ্রতিনিধি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর দিকে আঙুল তুলেছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার থেকে শুরু করে শান্তনু সেন— ‘বেসুরো’ নেতাদের তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে, যার মধ্যে অনেকে আবার অভিষেকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন। শুধু তাই নয়, ফলতার পুনর্নির্বাচনে তৃণমূল চতুর্থ স্থানে নেমে যাওয়ার পর অভিষেকের বহুচর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়েও দলের অন্দরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শনিবারের সফর থেকে অভিষেক তাঁর দলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের উদ্দেশ্যে কোনও কড়া বার্তা দেন কি না, এখন সেটাই দেখার।এর পাশাপাশি আরও একটি বড় বদল ঘটেছে অভিষেকের রাজনৈতিক জীবনে। এতদিন তিনি ‘জ়েড প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। কিন্তু রাজ্যের নতুন সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিধি মেনে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একজন সাংসদ হিসেবে যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, অভিষেক এখন সেটুকুই পাবেন। ফলে নিরাপত্তা একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাওয়ার পর শনিবারই প্রথম কালীঘাটের চেনা গণ্ডি ছাড়িয়ে বাইরে পা রাখছেন তিনি।স্বাভাবিকভাবেই অভিষেকের এই সফরকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপির মুখপাত্র প্রণয় রায় এই প্রসঙ্গে সরাসরি শাসকদলকে নিশানা করে জানিয়েছেন যে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোনও হিংসায় মদত দেওয়া হয়নি এবং ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর যে ধরণের হিংসা দেখা গিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এবার ঘটেনি। উল্টে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে তৃণমূল নেতাদের ওপর। এমনকি অভিষেকের বাড়ির সামনেও মানুষ ক্ষোভ দেখিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপি মুখপাত্রের সাফ হুঁশিয়ারি, শনিবার অভিষেকের এই সফরের জেরে যদি কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে তার সম্পূর্ণ দায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিতে হবে। সব মিলিয়ে, শনিবারের এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল এখন জমজমাট।[TECHTARANGA-POST:9570]হিডেন স্টোরিজ নিউজ