কলকাতা: দলের ঐতিহাসিক 'জোড়াফুল' প্রতীক সিন্দুকে বন্ধ হয়েছে, নাম ব্যবহারের ওপরও বসেছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। নিজের হাতে গড়া রাজপাট ও দলীয় প্রতীক খুইয়ে রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির চাপে পড়েই নিজের নেওয়া কড়া প্রতিজ্ঞা ভাঙতে বাধ্য হলেন কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো। রাজ্যে গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মিডিয়াকে একাংশের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে 'গোদি মিডিয়া' তকমা দিয়ে বয়কটের চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, এদের মুখোমুখি হবেন না। তবে পাঁচ মাস পর সেই বয়কটের ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগিয়ে অবশেষে শুক্রবার বিকেল চারটেয় প্রেস ক্লাবে মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে সুপ্রিমো কোনো আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলন করেননি, এমনকি কোনো সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারও দেননি। নিজের মতামত প্রকাশে ফেসবুক লাইভকেই তিনি একমাত্র মাধ্যম করেছিলেন, যেখানে পালটা প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ থাকে না। এর মাঝে বঙ্গ রাজনীতিতে বহু জল গড়িয়েছে, দলীয় কোন্দল ও বিভাজন চূড়ান্তে পৌঁছেছে, তবুও তিনি নীরব ছিলেন। তবে কমিশনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত জানার পরই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জরুরি বৈঠক ডেকে শুক্রবারের এই বহুপ্রতীক্ষিত সাংবাদিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে নেত্রীর পাশাপাশি দলের আইনি প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।অন্যদিকে, প্রতীকের পর দলীয় পরিচয় টিকিয়ে রাখতে কালীঘাট শিবির অভিনব আবেগীয় চাল চেলেছে। নির্বাচন কমিশনে পাঠানো তিনটি বিকল্প নামের প্রস্তাবেই যুক্ত করা হয়েছে 'মমতা' শব্দটি। প্রস্তাবিত তিনটি নাম হলো— ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’ এবং ‘তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’। কালীঘাট সূত্রের বক্তব্য, দলের প্রকৃত চালিকাশক্তি ও মুখ স্বয়ং নেত্রীই। তাই নতুন নামের মধ্যে তাঁর নাম যুক্ত থাকলে চরম সংকটের দিনেও দলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের আবেগ ও ঐক্য অটুট রাখা সম্ভব হবে। প্রতীকের এই মহা-সংকটের দিনে সুপ্রিমোর নীরবতা ভেঙে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসা বঙ্গ রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘোরায়, সেদিকেই এখন সবার নজর।[TECHTARANGA-POST:12732]