স্বঘোষিত পরিচয় কি তবে অতীত? লোকসভায় নতুন বিল ঘিরে দেশজুড়ে রূপান্তরকামীদের তুমুল বিক্ষোভ!
নয়াদিল্লি: লোকসভায় পেশ হতে চলেছে ‘রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল, ২০২৬’। কিন্তু, এই বিলের খসড়া সামনে আসতেই দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের মধ্যে। প্রস্তাবিত এই সংশোধনীর মাধ্যমে আত্মপরিচয় ঘোষণার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।[TECHTARANGA-POST:7559]২০২৬ সালের এই সংশোধনী বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি এখন থেকে চাইলেই নিজেকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আর রূপান্তরকামী হিসাবে ঘোষণা করতে পারবেন না। সরকারিভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ তকমা বা স্বীকৃতি পেতে গেলে তাঁকে নির্দিষ্ট মেডিক্যাল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং দাখিল করতে হবে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট। অর্থাৎ, চিকিৎসকদের শংসাপত্র ছাড়া আইনি পরিচয় পাওয়া সম্ভব হবে না।সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের দাবি, রূপান্তরকামীদের সঠিক সংজ্ঞা নির্ধারিত না থাকায় ভুয়ো পরিচয়ধারীর সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে প্রকৃত রূপান্তরকামীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বচ্ছতা আনতেই এই কড়াকড়ি।অন্যদিকে, রূপান্তরকামী সংগঠনগুলির দাবি, এই বিল তাঁদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার পরিপন্থী। অধিকাররক্ষা কর্মীদের মতে, লিঙ্গ স্বীকৃতির প্রক্রিয়া সহজ করার বদলে এই বিল সেটিকে আরও জটিল ও অপমানজনক করে তুলবে। তাঁদের বক্তব্য, নিজের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণ করার অধিকার একান্তই ব্যক্তিগত। সেখানে মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা থাকা মানেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।[TECHTARANGA-POST:7552]বিলের প্রতিবাদে দিল্লির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়াতেও এর আঁচ এসে পড়ে। সেখানে প্রায় ৫০ জন রূপান্তরকামী অধিকাররক্ষা কর্মী রাজপথে নেমে বিলের প্রতিলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের সাফ হুঁশিয়ারি, সরকার যদি এই বিলে পুনরায় সংশোধন না করে, তবে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।