‘ফ্রি’ রক্ত কীভাবে পৌঁছত চড়া দামে? পাঁশকুড়ায় রক্তের কারবারে গ্রেফতার ৩ টেকনিশিয়ান
পাঁশকুড়াঃ রক্তদান করে মানুষ আশা করেন, সেই রক্তে বাঁচবে কোনও প্রাণ। কিন্তু সেই রক্তই যদি পৌঁছে যায় কালোবাজারে? পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় এমনই অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। বেআইনি ভাবে রক্ত সংগ্রহ করে তা রোগী ও তাঁদের পরিবারের কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই তিন ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।কয়েক দিন আগে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তিন টেকনিশিয়ানের নাম সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এরপর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, দালালদের সঙ্গে যোগসাজশ করে তুলনামূলক কম দামে রক্ত সংগ্রহ করা হত। সূত্রের খবর, এই লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে UPI-এর মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:11973]তবে কী ভাবে রক্ত পৌঁছত এই চক্রের হাতে? তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের আয়োজিত রক্তদান শিবিরে রক্তদাতাদের যে কার্ড দেওয়া হয়, দালালরা সেগুলিই টাকা দিয়ে সংগ্রহ করত। একটি কার্ডের জন্য প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হত বলে অভিযোগ। এরপর ওই কার্ড ব্যবহার করে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হত। অভিযোগ, রক্তের জন্য কোনও টাকা না দিয়েই সেটি সংগ্রহ করার পর প্রয়োজনের সময়ে রোগী বা তাঁর পরিবারের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হত। এরই মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রক্ত ও প্লাজমা পাচারের অভিযোগও সামনে এসেছে। কলকাতার পাশাপাশি জেলার একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্ককে ঘিরেও অভিযোগ উঠেছে। সেই বৃহত্তর তদন্তের মধ্যেই পাঁশকুড়ায় এই গ্রেফতারি রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।