আর জি কর ধর্ষণ ও খুন: সেমিনার রুমের সঙ্গেই সন্দীপ ঘোষের ঘরও সিল করার নির্দেশ হাইকোর্টের! বিপাকে রাঘববোয়ালরা?
কলকাতা: আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নজিরবিহীনভাবে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২৪ সালের সেই ভয়ঙ্কর ঘটনার তদন্তের ফাইল রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই পুনরায় খোলা হয়েছে। আর, এবার সিবিআই-কে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ জানাল, শুধুমাত্র সেমিনার হল নয়, প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের চেম্বার-সহ অভয়া কাণ্ডের সঙ্গে হাসপাতালের যে-যে জায়গার যোগসূত্র রয়েছে, সেই সম্পূর্ণ অকুস্থল অবিলম্বে সিল করতে হবে।[TECHTARANGA-POST:9260]মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি চলাকালীন যে চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলি সামনে এসেছে, তা হল - [TECHTARANGA-POST:9259]এদিন শুনানির শুরুতেই আদালতের তরফে সিবিআই-এর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তদন্তভার নেওয়ার সময় ঠিক কোন কোন জায়গা সিল করা হয়েছিল? জবাবে সিবিআই কেবল ‘সেমিনার হল’-এর কথা জানালে ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিচারপতিরা। পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, "আর কোনও জায়গা সিল করার প্রয়োজন হয়নি?" সিবিআই ‘না’ বললেও আদালত তা মানতে নারাজ।[TECHTARANGA-POST:9246]উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই অভয়ার পরিবারের তরফে দাবি করা হচ্ছিল, সেমিনার হলের ঠিক পাশের একটি ঘর এবং তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের চেম্বারের সঙ্গেও এই অপরাধের গভীর যোগসূত্র থাকতে পারে। পরিবারের সেই দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েই এবার সমস্ত সন্দেহভাজন অকুস্থল দ্রুত সিল করার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি।দু’বছর আগে, ২০২৪ সালের অগস্ট মাসের এই ঘটনার মূল আসামি সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। তবে, আর জি করের সেই রাতের মূল ষড়যন্ত্র এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের তদন্ত নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছিল নির্যাতিতার পরিবার। সেই কারণেই নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। যার জেরে এবার সিবিআই-কে পুনরায় অকুস্থল সিল করার কড়া নির্দেশ দিল দুই বিচারপতির বেঞ্চ।[TECHTARANGA-POST:9236]মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেই অভয়া কাণ্ডের সুবিচারের জন্য বিরাট পদক্ষেপ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের বড় পদে থাকা তিনজন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে তাঁর সরকার। নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি ছিল, "ওই আইপিএসদের ফোনকল, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট — সব বের করব। দেখতে হবে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও মন্ত্রীর কথায় তাঁরা সেদিন সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন কিনা। প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া এবং নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হবে।"[TECHTARANGA-POST:9215]তদন্তের এই নতুন মোড় এবং হাইকোর্টের অল-আউট সিলের নির্দেশের পর, আর জি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা বড় বড় রাঘববোয়ালদের মুখোশ এবার খুলবে কিনা, সেটাই এখন দেখার!