Hidden Stories (বাংলা)

মাত্র ১২০ ঘণ্টার ম্যাজিকে শেষ অসাধ্য সাধন, এই তারিখ থেকেই ছুটবে চিংড়িঘাটা মেট্রো?

কলকাতা: বছরের পর বছর ধরে যে কাজ আটকে ছিল, তা যেন এক লহমায় ঘটে গেল! গত সরকারের আমলে প্রায় দেড় বছর ধরে ফাইলের তলায় চাপা পড়ে থাকা চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের জট এক লহমায় কেটে গিয়েছে। রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই এবার রকেট গতিতে এগোতে শুরু করেছে এই মেগা প্রকল্পের কাজ। মাত্র ১২০ ঘণ্টারও কম সময়ে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দু’দফায় মেট্রো লাইন জোড়ার মস্ত বড় কাজ সম্পূর্ণ করে দেখালেন ইঞ্জিনিয়াররা। যার জেরে ট্র্যাফিকের জাঁতাকলে পিষ্ট হওয়া বাইপাসযাত্রীদের জন্য এক বিরাট সুখবর চলে এলো। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের শেষেই শুরু হয়ে যেতে পারে বহু প্রতীক্ষিত চিংড়িঘাটা মেট্রো পরিষেবা।[TECHTARANGA-POST:9463]মেট্রো রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অসাধ্য সাধনের জন্য দুটি দফায় ৬০ ঘণ্টা করে মোট ১২০ ঘণ্টা সময় নেওয়া হয়েছিল। প্রথম দফার কাজ শুরু হয়েছিল গত ১৫ মে রাত ৮টা থেকে, যা চলে ১৮ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত। এই চরম ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই ৩১৭ ও ৩১৮ নম্বর পিলারের মাঝে একটি বিশাল ২৮ মিটার দীর্ঘ ভায়োডাক্ট বসিয়ে দেওয়া হয়। এর ঠিক চারদিন পরেই, অর্থাৎ ২২ মে রাত ৮টা থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় দফার কাউন্টডাউন। ২৫ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলা এই দ্বিতীয় দফায় ৩১৮ ও ৩১৯ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী আরও একটি ৩৪ মিটার দীর্ঘ ভায়োডাক্ট বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র দুটি উইকএন্ডের ম্যারাথন অপারেশনে তিনটি পিলারের মধ্যে মোট ৬২ মিটার ভায়োডাক্ট বসানোর কাজ সম্পূর্ণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।[TECHTARANGA-POST:9452]এত বড় একটা কর্মযজ্ঞের জন্য স্বাভাবিকভাবেই ইএম বাইপাসের উল্টোডাঙাগামী লেন এবং ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসে বেশ কিছুদিন ট্র্যাফিক সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়েছিল, যার জেরে ব্যাপক যান নিয়ন্ত্রণ করতে হয় কলকাতা পুলিশকে। তবে আগামী দিনে যাতে আমজনতার ভোগান্তি না হয়, তার জন্য ইতিমধ্যেই মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে ফেলেছে প্রশাসন। চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের পূর্বদিকে কংক্রিটের ডেক বসানোর সময় যানজট এড়াতে একটি বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হবে। সল্টলেক বাইপাসের ধারের খালের পাশ দিয়ে প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ এই নতুন রাস্তা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশ এবং আরভিএনএল (RVNL) কর্তারা ইতিমধ্যেই যৌথভাবে সেই জায়গা পরিদর্শন করে চিহ্নিতকরণের কাজ সেরে ফেলেছেন।[TECHTARANGA-POST:9434]চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ে গার্ডার বসানোর মতো সবচেয়ে কঠিন পর্বটি শেষ হয়ে যাওয়ায় এবার কাজের গতি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এবার বিশালাকার লঞ্চার মেশিনটি সোজা ৩২৯ নম্বর পিলার পর্যন্ত চলে যাবে। সেখান থেকেই নিকো পার্কের দিকে থাকা গৌরকিশোর ঘোষ মেট্রো স্টেশনের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে। দেড় বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে যেভাবে ঝড়ের গতিতে কাজ এগোচ্ছে, তাতে আর কয়েকটা মাসের অপেক্ষা মাত্র। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই চিংড়িঘাটার মানুষ মেট্রো চড়ে গন্তব্যে রওনা দিতে পারবেন বলে বুক বাঁধছেন তিলোত্তমার বাসিন্দারা।

মাত্র ১২০ ঘণ্টার ম্যাজিকে শেষ অসাধ্য সাধন, এই তারিখ থেকেই ছুটবে চিংড়িঘাটা মেট্রো?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার