Nandigram By Poll: নন্দীগ্রামে আবার ভোটের রণহুংকার! ৩৭ কোম্পানি বাহিনী দিয়ে দুর্ভেদ্য দুর্গ তৈরি কমিশনের, স্পর্শকাতর ৭৯ বুথ
তমলুক: উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত ও তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুরের হেভিওয়েট বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। ভোটগ্রহণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। আগামী ৬ অক্টোবরের মহাসংগ্রামের আগে সমগ্র নন্দীগ্রামকে কার্যত সেনার দুর্গে পরিণত করা হচ্ছে। উপনির্বাচনে মোতায়েন করা হচ্ছে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিমতৌড়ির জেলা শাসক ভবনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকে প্রশাসনের সার্বিক প্রস্তুতির খতিয়ান তুলে ধরেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা শাসক নিরঞ্জন কুমার এবং পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা।প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফলের ওপর ভাগ্য নির্ধারণের পর গণনা হবে ৯ অক্টোবর। নন্দীগ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৪১৯ জন, যাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ৩২৩টি বুথ তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার স্লিপ বিলি করার কাজ শেষ এবং ২ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত ভোটগ্রহণের সামগ্রী প্রস্তুত করে নেওয়ার নিশ্চিত বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেকটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পাহারায় থাকবেন। তাঁদের সহযোগিতায় রাজ্য পুলিশের ৬০০ থেকে ৭০০ জন সশস্ত্র কর্মী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও এলাকায় মোতায়েন থাকবেন।[TECHTARANGA-POST:13248]নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৭৯টি স্পর্শকাতর বুথে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তৈরি রাখা হয়েছে কিউআরটি (QRT), সেক্টর ফোর্স এবং অন্যান্য বিশেষ পুলিশি টিম। নাকা চেকিং, রুট মার্চ এবং দিনরাত টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত নির্বাচনী বিধিভঙ্গ সংক্রান্ত ১০২টি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল এবং প্রশাসন দাবি করেছে যে তার সবকটিই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি টাকা ও মদ সরবরাহ রুখতে চালানো অভিযানে এ পর্যন্ত নগদ ৯৭ লক্ষ টাকা এবং ৫,৮৯৩ লিটার বেআইনি মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানিয়েছেন, বিগত দু’মাসে ৩০০টিরও বেশি জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসেনি এবং কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা হলে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে এখন কড়া নজরদারির আবহ।