Chicken Neck: সেবকে নতুন ৬ লেনের সুদীর্ঘ সেতু, ঐতিহাসিক করোনেশন ব্রিজের বিকল্প তৈরিতে একধাপ এগিয়ে নবান্ন-কেন্দ্র যৌথ তৎপরতা!
শিলিগুড়ি: যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও উত্তরবঙ্গের স্ট্র্যাটেজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে সম্পূর্ণ অটুট, আর সেই লক্ষ্যে ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলের সুরক্ষায় এক বেনজির সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বহুল প্রতীক্ষিত প্রস্তাবিত ছয় লেনের দ্বিতীয় সেবক করোনেশন সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড বা সংযোগকারী রাস্তা নির্মাণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক এই সংক্রান্ত একটি জরুরি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ০ কিলোমিটার থেকে ৬.৯১ কিলোমিটার পর্যন্ত নতুন সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি হতে চলেছে।এই মেগা প্রকল্পের জন্য জলপাইগুড়ি জেলার মাল ব্লকের অন্তর্ভুক্ত পশ্চিম টোটগাঁও এবং এলেনবাড়ি চা বাগান এলাকার জমি অধিগ্রহণের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের বিজ্ঞপ্তির পরপরই প্রশাসনিক পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের তৎপরতা ব্যাপক গতি পেয়েছে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি তদারকির জন্য জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলাশাসককে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পটি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে এবং জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলেই পুজোর পর পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে যাবে।উল্লেখ্য, ১৯৩৭ থেকে ১৯৪১ সালের মধ্যে ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়া ঐতিহাসিক ‘করোনেশন সেতু’-র ওপর চাপ কমানো এবং বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিস্তা নদীর ওপর ছয় লেনের নতুন সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত আগস্ট মাসেই কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের তরফে এই প্রকল্পের টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার এই সেতুর জন্য বিশাল ৮৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ৫৯১.৩১০ কিলোমিটার পয়েন্টের কাছাকাছি তিস্তা নদীর ওপর ‘ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ (EPC) মোডে নতুন সেতুটি গড়ে উঠছে। সেতু ও সংযোগকারী রাস্তা মিলিয়ে এর মোট দৈর্ঘ্য হতে চলেছে ৬.৮৫ কিলোমিটার।বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তার ওপর ছয় লেনের এই নতুন সেতু নির্মাণ উত্তরবঙ্গের পরিবহন ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করবে। এর ফলে সেবক-সিকিম রুট যেমন আরও শক্তিশালী হবে, তেমনই সামরিক দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি ঘটবে। ভবিষ্যতে যেকোনো চরম পরিস্থিতি বা যুদ্ধের সময়ও যাতে দেশের এই অংশ বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে, সেই নিখুঁত ছক কষেই তিস্তার বুকে শুরু হতে চলেছে এই বিশাল যজ্ঞ।[TECHTARANGA-POST:12599]হিডেন স্টোরিজ নিউজ