মধ্যবিত্তের বেডরুমেও ইরান যুদ্ধের আঁচ, রেকর্ড হারে বাড়তে পারে কন্ডোমের দাম!
নয়াদিল্লি: যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি পৌঁছে গেল আমজনতার ব্যক্তিগত জীবনেও। ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে খনিজ তেল ও গ্যাসের সঙ্কটের কথা সবার জানা। কিন্তু, সেই আগুনের আঁচ এবার লাগল দেশের কন্ডোম শিল্পে। কাঁচামালের তীব্র ঘাটতির জেরে দেশের প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার কন্ডোম শিল্প এখন কার্যত খাদের কিনারায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই ভারতের বাজারে কন্ডোমের দাম এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে!কন্ডোম তৈরির প্রধান দুটি উপাদান হল, সিলিকন অয়েল এবং অ্যামোনিয়া। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে লুব্রিক্যান্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের জোগান কার্যত বন্ধ। অন্যদিকে, ল্যাটেক্স স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়ার দাম ৪০-৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও, প্যাকেজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত পিভিসি এবং অ্যালুমিনিয়ামের আকাশছোঁয়া দাম উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।কাঁচামালের এই আকাল ও অতিরিক্ত খরচের জেরে এইচএলএল লাইফকেয়ার, ম্যানকাইন্ড ফার্মা এবং কিউপিড লিমিটেডের মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলি উৎপাদন ও সরবরাহ - উভয় ক্ষেত্রেই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে সরকারের একটি সিদ্ধান্তে। সরকার জানিয়েছে, বর্তমান সঙ্কটে থাকা পেট্রকেমিক্যাল সম্পদ আগে জরুরি শিল্পক্ষেত্রগুলিতে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে কন্ডোম শিল্পে কাঁচামালের জোগান আরও ৩৫ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে কন্ডোমের বাজার এত বড় হওয়ার প্রধান কারণ ছিল এর সস্তা দর। দাম বেড়ে গেলে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের মধ্যে এর ব্যবহার এক ধাক্কায় কমে যেতে পারে। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA)-এর প্রাক্তন সভাপতি রাজীব জয়দেবন সতর্ক করে বলেছেন, "কন্ডোমের দামে সামান্য বৃদ্ধিও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অংশের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঘটনা বাড়বে। যা দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।"পেট্রল-গ্যাসের পর এবার বেডরুমের সুরক্ষাকবচও কি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে? ইরান যুদ্ধের এই 'সাইড এফেক্ট' এখন সমাজবিজ্ঞানীদের কাছেও বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।