আকাশপথে মাদক পাচার! মালদা পুলিশের জালে আন্তঃরাজ্য ড্রাগ র্যাকেটের ৬ পান্ডা
মালদা: মাদক পাচারের চিরাচরিত পথ ছেড়ে (আন্তঃরাজ্য ক্ষেত্রে) এবার আকাশপথকে বেছে নিয়েছে কারবারিরা। কিন্তু, শেষরক্ষা হল না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এবং মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে এক দুঃসাহসিক অভিযানে মণিপুর থেকে গোয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিশাল মাদক চক্রের পর্দাফাঁস করল মালদা জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় কলকাতা ও গোয়া থেকে মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত হয় কলকাতার নিউ টাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে। মালদা জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালিয়ে প্রথমে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, এই চক্রের আরও চারজন সদস্য হিমাচলপ্রদেশে গা-ঢাকা দিয়ে আছে।পুলিশ হিমাচলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা খবর পেয়ে সেখান থেকে বিমানে গোয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু, দমে যায়নি মালদা পুলিশ। দ্রুত গোয়া পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযুক্তদের ছবি ও যাবতীয় তথ্য পাঠানো হয়। বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর মুখেই গোয়া পুলিশ তাদের পাকড়াও করে। এরপর মালদা পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে পৌঁছে ট্রানজিট রিমান্ডে তাদের মালদায় নিয়ে আসে।তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতদের কাছ থেকে একটি কন্টেনার উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, কোনও একটি আয়ুর্বেদ কোম্পানির কোটা ব্যবহার করে তারা ড্রাগ স্মাগলিং করছিল। পাচারের রুটটি ছিল - মণিপুর: এখান থেকেই বিমানে করে মাদক তৈরির কাঁচামাল কলকাতায় আসত।মালদা (কালিয়াচক): কলকাতা থেকে কাঁচামাল নিয়ে আসা হত মালদায়। এখানে গোপন ডেরায় সেই কাঁচামাল থেকে তৈরি হত ব্রাউন সুগার।[TECHTARANGA-POST:6587]দেশজুড়ে সরবরাহ: মালদায় তৈরি হওয়ার পর সেই মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই প্রথম জেলা থেকে মাদক পাচারের ক্ষেত্রে বিমান ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এল। তিনি বলেন, "গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা তদন্ত শুরু করি। কলকাতা এবং গোয়া থেকে মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মালদা জেলা আদালতে পেশ করে ৭ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং কোন আয়ুর্বেদ কোম্পানির নাম এই পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।