মুম্বই: সারা রাত ধরে চলা বিধ্বংসী অতিভারী বৃষ্টিতে আক্ষরিক অর্থেই বিপর্যস্ত ও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বাণিজ্যনগরী মুম্বই সহ গোটা মহারাষ্ট্র। রবিবার সকাল থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ বিন্দুমাত্র কমেনি সাধারণ মানুষের। কোথাও হাঁটু সমান জল, আবার কোথাও গোড়ালিসমান কাদায় থমকে গিয়েছে জনজীবন। এই দুর্যোগের মাঝেই কুরলা এলাকায় এক প্রৌঢ় ব্যবসায়ীর গাছ চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10625] মৃতের নাম ইউনুস হাকিমুদ্দিন শেখ। জানা গিয়েছে, কুরলা এলাকায় সম্প্রতি একটি নতুন দোকান কিনেছিলেন তিনি। এখনও সেটির উদ্বোধন হওয়া বাকি ছিল। রবিবার সকালে সেই দোকানের কাজ তদারকি করতে যাওয়ার সময়ই আচমকা তাঁর গায়ের ওপর একটি বিশাল গাছ ভেঙে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরই পুরসভাকে খবর দেওয়া হলেও দীর্ঘ দু’ঘণ্টা সেখানে কোনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়নি। গাছের তলায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার পর যখন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগেই মুম্বইয়ে স্কুলবাসের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে ১১ বছরের এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল।'অনুপ্রবেশকারীদের বের করতেই হবে'— কড়া বার্তা দিলীপেরমুম্বই এবং তার আশপাশের শহরতলিতে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবারের ভারী বর্ষণের জেরে সেন্ট্রাল ও ওয়েস্টার্ন লাইনের রেললাইনগুলি জলের তলায় চলে যাওয়ায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছিল। রবিবার সকাল থেকে জল কিছুটা নামায় ট্রেন চলাচল শুরু হলেও সময়মতো ট্রেন না চলায় স্টেশনে স্টেশনে ক্ষোভে ফাটছেন যাত্রীরা। তবে এই মুহূর্তে মুম্বইবাসীর সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজপথের খানাখন্দ ও গর্তগুলি। রাস্তায় জল জমে থাকায় সেই মরণফাঁদগুলি খালি চোখে দেখা যাচ্ছে না, যার ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10613]পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে আশঙ্কা করে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) এবং হাওয়া অফিসের তরফ থেকে গোটা মুম্বই জুড়ে চরম 'লাল সতর্কতা' বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, জোয়ার বা হাই টাইডের কারণে মুম্বইয়ের নিচু এলাকাগুলিতে জলের পরিমাণ আরও মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে। সেই কারণে সমুদ্র তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের তড়িঘড়ি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএমসি-র তরফে স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত জরুরি বা প্রাণ বাঁচানোর প্রয়োজন ছাড়া কোনো নাগরিক যেন কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে পা না বাড়ান।