নয়াদিল্লি: দক্ষিণ দিল্লির হাইপ্রোফাইল চাণক্যপুরীর কাছে পাঁচতলা মেসবাড়ি ভেঙে ছাত্রসহ সাতজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে জালে মূল অভিযুক্ত। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছিল মেসবাড়ির মালিক হরিরাম বনসল। সোমবার টানা তল্লাশি চালিয়ে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই পুরসভার চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু সাতটি তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়ার পর এই জল গড়িয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট পর্যন্ত। বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সোমবারই এই ঘটনার জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়েছেন মামলাকারী অনিকেত কুমার গুপ্ত। মৃতদের পরিবারপিছু ন্যূনতম ১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দিল্লির সমস্ত পিজি ও হস্টেল ভবনের পরিকাঠামোগত নিরাপত্তা অবিলম্বে যাচাই করার দাবি তোলা হয়েছে আদালতে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়িটির বেসমেন্টে জল জমে গিয়েছিল। সেই বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যেই বেসমেন্টের পুরোনো দেওয়াল ভেঙে নতুন করে সংস্কারের কাজ চালানো হচ্ছিল। কোনো রকম বৈধ অনুমোদন ছাড়া কীভাবে এমন বিপজ্জনক নির্মাণকাজ চলছিল, তা খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। ভবনের মালিক ছাড়াও নিযুক্ত ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারদের ভূমিকাও এখন আতশকাচের তলায়। এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল কিংবা মেসবাড়ির মতো সমস্ত পাবলিক ভবনের জন্য অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা নীতি আনা হচ্ছে। পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিটি ভবনে ‘নিরাপত্তা শংসাপত্র’ বাধ্যতামূলক করা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই পড়ুয়াদের অসুরক্ষিত হস্টেলে থাকতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনো সরকারি আধিকারিকের ন্যূনতম গাফিলতি থাকলেও কাউকে রেয়াত করা হবে না।হিডেন স্টোরিজ নিউজ