Delhi Police Controversy: মহিলা সাংবাদিকদের যৌন হেনস্থায় তোলপাড় দিল্লি! রাহুল গান্ধী সরব হতেই এসিপির পদোন্নতিতে স্থগিতাদেশ বিজেপি সরকারের!
নয়াদিল্লি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা বিক্ষোভ কভার করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্থার অভিযোগে এবার উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। অভিযোগের তীর স্বয়ং সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগবতসহ একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে। বিতর্ক চরমে উঠতেই এবং তিন মহিলা সাংবাদিকের মারাত্মক যৌন হেনস্থার অভিযোগ সামনে আসার পরই তড়িঘড়ি পদোন্নতির সিদ্ধান্ত সংশোধন করল দিল্লির বিজেপি সরকার। অভিযুক্ত এসিপির আর্জি মেনেই তাঁর নতুন দায়িত্ব স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানানো হলেও, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রশাসন।ঘটনার সূত্রপাত যন্তর মন্তর চত্বরে, যেখানে শনিবার বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনজন মহিলা সাংবাদিক দিল্লি পুলিশের এসিপি বিবেক ভগবত ও অন্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গুরুতর শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, এই মারাত্মক অভিযোগ ওঠার পরদিনই বিবেক ভগবতকে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার পদে পদোন্নতি দিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল্লি পুলিশের স্বরাষ্ট্র দফতর। এসিপির পাশাপাশি আরও ১১ জনের পদোন্নতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না করে উল্টে তাঁকে পদোন্নতি দেওয়ায় রবিবার রাত থেকেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে আছড়ে পড়ে সিজেপি, সিপিএম এবং সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শন।বিক্ষোভ সামাল দিতে সোমবার সকালে পুলিশ চরম ধরপাকড় শুরু করে এবং অভিযোগকারিণী সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজনকে আটকও করে। এই ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকায় রাহুলের দাবি, অভিযুক্ত এসিপির বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করা পুলিশের ন্যূনতম দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।রাজনৈতিক চাপ ও চতুর্মুখী সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে দিল্লি সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর আগের পদোন্নতি নির্দেশিকা সংশোধন করে। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসিপি বিবেক ভগবত নিজেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পদ নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় তাঁর পদোন্নতি স্থগিত রাখা হয়েছে, তবে বাকি ১১ জনের পদোন্নতি বজায় থাকছে। স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে মামলাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনো এফআইআর দায়ের না হওয়ায় দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তুঙ্গে।[TECHTARANGA-POST:13385]