Durgapur News: দুর্গাপুরে আকাশে বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার মেঘ! আর্থিক সাশ্রয়েই কি বন্ধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র? সরব অগ্নিমিত্রা
দুর্গাপুর: কারখানার চিমনি থেকে বেপরোয়াভাবে নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া। নেপথ্যে বিপুল আর্থিক সাশ্রয় ও যন্ত্রের ক্ষতি এড়ানোর অজুহাত! শিল্পনগরী দুর্গাপুরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধিনিষেধকে তোয়াক্কা না করে একশ্রেণীর কারখানা কর্তৃপক্ষের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ জমছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। দুর্গাপুর নগর নিগম এলাকার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেট ডায়রি মোড় সংলগ্ন একটি বেসরকারি কারখানাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ সামনে আসতেই গর্জে উঠেছেন জনপ্রতিনিধিরা। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সাবেক শাসকদলের আমলের কুঅভ্যাস বর্তমান জমানায় আর বরদাস্ত করা হবে না।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কারখানায় বাতাস পরিশোধনের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটর বা ইএসপি (ESP) যন্ত্রটি অধিকাংশ সময়ই বন্ধ রাখা হয়। মেঘলা আকাশ কিংবা বর্ষার দিনে আকাশে মেঘের আস্তরণ থাকলে বায়ুমণ্ডলে ধোঁয়া সহজে নজর এড়িয়ে যায়— এই সুযোগ নিয়েই দেদার চালানো হচ্ছে চিমনি। এতে আশপাশের আবাসিক এলাকায় বাতাসের মান চরমভাবে বিষিয়ে উঠছে। কারখানারই এক কর্মীর দাবি, ইএসপি মোটরের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতেই বিশেষ পরিস্থিতিতে কৃত্রিমভাবে যন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। যদিও সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কারখানা মালিক দেবাশিস মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, নিয়ম মেনেই কারখানা চালানো হয় এবং পরিবেশ বিধিতে কোনো গাফিলতি করা হয়নি।তবে এই ঘটনায় পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্য সরকার ও স্থানীয় নেতৃত্ব। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল হুঙ্কার দিয়ে বলেন, "তৃণমূল জামানার যে কুঅভ্যাস ও বেপরোয়া ভাব ছিল, সেই সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না। মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সাথে কোনো প্রকার আপস করা যাবে না। দূষণ রুখতে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"একই সুরে সরব হয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট জানান, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কোনো কারখানা যদি অতিরিক্ত মুনাফার লোভে সাধারণ মানুষের ফুসফুসকে বিপদে ফেলে, তবে প্রশাসন সেই অভিযোগ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে।