বৌ-ছেলের পর এবার মদন! ২১ জুলাইয়ের দিনই ইডি-র সমন
কলকাতা: স্ত্রী ও দুই ছেলের পর এবার নিজেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর স্ক্যানারে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার সরাসরি তাঁকেই হাজিরার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ২১ জুলাইয়ের টানটান উত্তেজনার আবহ শেষ হতে না হতেই এই সমন ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। আগামী ২৩ জুলাই মদন মিত্রের স্ত্রীকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছে এবং তার ঠিক পরেই, ২৯ জুলাই সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিধায়ককে। সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে সবরকম সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত।কামারহাটি পৌরসভায় বেআইনি নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় আগেই নাম জড়িয়েছিল এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের। গত জুন মাসেই তাঁর দক্ষিণেশ্বর ও ভবানীপুরের একাধিক বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ইডি, যেখান থেকে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর নথিপত্র উদ্ধার হয় বলে দাবি। এরপর গত ১৪ জুলাই মদনের পরিবারের সদস্যদের কাছে নোটিস পাঠায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি।এই নোটিস পাওয়ার পর থেকেই নাটকীয় মোড় নিতে শুরু করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান। ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক করেন মদন। তার পরদিনই বিধানসভায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে যোগ দেন ঋতব্রত শিবিরে। শিবির বদল করতেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। তবে তাঁর এই পদক্ষেপ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কুণাল ঘোষ। পাল্টা তোপ দেগে মদনও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন যে, তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে আগামী দশ বছর বিরোধী আসনেই দেখতে চান।একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেও মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির আক্রমণ শানান মদন মিত্র। তিনি খোলাখুলিই মুখ্যমন্ত্রীকে সময় বেঁধে দিয়ে অভিষেকের হাত ছেড়ে তরুণ প্রজন্মের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। এমনকি এর আগে এক লাইভ ভিডিওতে অভিষেককে চরম আক্রমণ করায় তাঁকে ১০ কোটি টাকার আইনি নোটিসও ধরিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই সমস্ত রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝেই ২১ জুলাই সভা থেকে ফিরতেই ইডির এই নতুন সমন মদন মিত্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।[TECHTARANGA-POST:11150]হিডেন স্টোরিজ নিউজ