১২ পাতার ফর্ম দেখে মাথায় হাত! ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে’ পরিবার বলতে আসলে কারা? সরকারি ব্যাখ্যায় লুকিয়ে মস্ত বড় টুইস্ট!
কলকাতা: নতুন সরকারের এক একটি সামাজিক প্রকল্পের ফর্ম হাতে আসতেই রীতিমতো চোখ চড়কগাছ হচ্ছে সাধারণ উপভোক্তাদের। বিশেষ করে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আবেদনপত্রটি দেখে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে একগুচ্ছ প্রশ্ন ও চরম বিভ্রান্তি। পুরো ফর্মটি এক বা দুই পাতার নয়, একেবারে ১২ পাতার এক দীর্ঘ খতিয়ান! এই আবেদনপত্রে আবেদনকারীর নিজের তথ্যের পাশাপাশি তাঁর গোটা পরিবার সংক্রান্ত একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও খুঁটিনাটি তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। [TECHTARANGA-POST:9570]কিন্তু আমজনতার মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সরকারি খাতায় বা এই ফর্মে ‘পরিবার’ বলতে ঠিক কাদের বোঝানো হচ্ছে? আমরা সাধারণত পরিবার বলতে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান অথবা বাবা-মা ও সন্তানদের বুঝি। তবে এই ১২ পাতার ফর্মের একদম শেষ পাতায় সরকার ‘পরিবারে’র যে সংজ্ঞা দিয়েছে, তাতেই লুকিয়ে রয়েছে আসল চমক ও বড়সড় টুইস্ট।[TECHTARANGA-POST:9533]প্রশাসনের তরফ থেকে দেওয়া অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের এই ফর্মটির প্রথম ১১টি পাতায় আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যের নাড়িভুঁড়ির তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। সেখানে পরিবারের কতজন সদস্য, তাঁরা কে কী কাজ করেন, তাঁদের প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ডের নম্বর, স্বাস্থ্য বিমা আছে কি না, এমনকি তাঁদের মাসিক আয় ও পেশা কী—সবকিছু বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর ফর্মের একেবারে শেষ অর্থাৎ ১২ নম্বর পাতায় দেওয়া হয়েছে ‘পরিবারে’র আসল সরকারি ব্যাখ্যা। ফর্মে উল্লেখিত নির্দেশিকা অনুসারে, “পরিবার বলতে এমন একদল ব্যক্তিকে বোঝায়, যাঁরা সাধারণত একসঙ্গে বসবাস করেন এবং একই রান্নাঘর থেকে খাবার খান।” অর্থাৎ, একই ছাদের তলায় থাকা এবং একই হাঁড়ির অন্ন বা খাবার ভাগ করে খাওয়া মানুষদেরই কেবল একটি একক পরিবার হিসেবে গণ্য করছে সরকার।[TECHTARANGA-POST:9522]সরকারি এই নতুন ব্যাখ্যার পরই সাধারণ মানুষের মনে একাধিক বাস্তব ও জটিল প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বর্তমান যুগে জীবিকা বা কাজের সূত্রে বহু স্বামী-স্ত্রী পরস্পর থেকে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় কিংবা ভিন্ন রাজ্যে বসবাস করেন। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের স্ত্রীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বড়সড় সমস্যা তৈরি করতে পারে; কারণ তাঁদের স্বামীরা বছরের বেশিরভাগ সময় কর্মসূত্রে অন্য রাজ্যে কাটান। দ্বিতীয়ত, এমন অনেক পরিবার রয়েছে যেখানে স্বামীর ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড রয়েছে একটি ঠিকানায়, আর স্ত্রীর ভোটার ও অন্যান্য নথিপত্র রয়ে গিয়েছে তাঁর বাপের বাড়ির ঠিকানায়; সেক্ষেত্রে তাঁরা কীভাবে আবেদন করবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9510] তৃতীয়ত, বৃদ্ধ বাবা-মা এক জায়গায় থাকেন আর কর্মসূত্রে ছেলে-বউমা সম্পূর্ণ আলাদা জায়গায় বসবাস করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরিবারের সংজ্ঞা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই ধরণের একগুচ্ছ জটিল পরিস্থিতি তৈরি হলে উপভোক্তাদের নিজেদের এলাকার বিএলও (BLO) বা বুথ লেভেল অফিসারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফর্ম পূরণের সময় যাতে কোনো ভুলত্রুটি না হয়, তার জন্য বিএলও-দের কাছ থেকে সঠিক সমাধান ও উত্তর জেনেই তবেই এই ১২ পাতার মেগা ফর্ম ফিলাপ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।