হরমুজের পর কি এবার বাব এল-মান্ডেব? হাউথিদের হুঁশিয়ারিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা!
নিজস্ব প্রতিনিধি: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একদিকে ইরান যখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈল ধমনী 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে এক লিটার তেলও বাইরে যেতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, ঠিক তখনই নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিল হাউথিরা। তাদের স্পষ্ট বার্তা— "ট্রিগারে আঙুল রয়েছে।" অর্থাৎ, যে কোনও মুহূর্তে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে পারে তারা। আর হাউথিরা যুদ্ধে নামা মানেই লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার 'বাব এল-মান্ডেব' প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি।[TECHTARANGA-POST:7310]ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে বাব এল-মান্ডেব প্রণালী বিশ্ববাণিজ্যের মেরুদণ্ড। লোহিত সাগর, ভারত মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করা এই সমুদ্রপথটি এশিয়া ও ইউরোপের বাণিজ্যের প্রধান সংযোগকারী। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ৩০ শতাংশ এই পথ দিয়েই যায়। এমনকি সৌদি আরব তেল সরবরাহের জন্য যে বিকল্প পথ তৈরি করেছিল, সেটিও এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। এটি বন্ধ হওয়া মানেই বিশ্ববাণিজ্য পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়া।[TECHTARANGA-POST:7302]ইরানের হরমুজ রণকৌশলে ইতিমধ্যেই নাজেহাল দশা আমেরিকার। তেলের দাম হু হু করে বাড়ায় প্রবল চাপে পড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শেষমেশ রুশ তেল কেনায় ছাড়পত্র দিতে বাধ্য হয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের ঝড় উঠলেও, জ্বালানি সংকট সামাল দিতে এছাড়া আর কোনও পথ ছিল না হোয়াইট হাউসের কাছে।[TECHTARANGA-POST:7299]বিখ্যাত পডকাস্ট হোস্ট মারিও নফলের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাউথিরা যদি এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়, তবে পরিস্থিতি বীভৎস আকার ধারণ করবে। হরমুজের পর বাব এল-মান্ডেব অবরুদ্ধ হলে জ্বালানি সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যা আধুনিক বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এই সম্ভাব্য মহাপ্রলয় রুখতে পারে কি না।