ব্যালটে নাম, লড়াইয়ে নেই তৃণমূল! কড়া পাহারায় ফলতায় নজিরবিহীন পুনর্নির্বাচন
ফলতা: বাংলায় এ এক নজিরবিহীন নির্বাচনী কোলাজ। ইভিএমে নাম ও প্রতীক সটান জ্বলজ্বল করছে, অথচ ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে খোদ শাসকদলের প্রার্থীই ঘোষণা করে দিয়েছেন যে তিনি আর লড়াইয়ের ময়দানেই নেই! ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তুমুল শোরগোল। একদিকে বুথের বাইরে ভোটারদের লম্বা লাইন আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা, অন্যদিকে প্রধান প্রতিপক্ষের এই আকস্মিক ‘রণভঙ্গ’— সব মিলিয়ে ফলতার ভোট এখন এক অভিনব সমীকরণের সাক্ষী।গত ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু ভোটের দিন একাধিক বুথের ইভিএমে টেপ এবং আতর লাগিয়ে রাখার মতো মারাত্মক অভিযোগ তোলেন ভোটাররা। নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়নি। তড়িঘড়ি তদন্তে নেমে বুথগুলোর ওয়েব কাস্টিং ব্যবস্থা খুঁটিয়ে দেখার পরেই কারচুপির প্রমাণ মেলে এবং ফলতার ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। সেই নির্দেশ মেনেই আজ, বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে কড়া নিরাপত্তায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ।এবারের ছাব্বিশের নির্বাচন বাংলার বুকে এক অন্য ইতিহাস তৈরি করেছে। চেনা অশান্তি আর রক্তপাতহীন এক অন্যরকম ভোট দেখেছে রাজ্যবাসী। ফলতার মতো দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদ দিলে কমিশনের কড়া নজরদারি একশো শতাংশ সফল। আজকের এই পুনর্নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করতে গোটা এলাকাকে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি বুথের সুরক্ষায় রয়েছেন এক সেকশন করে কেন্দ্রীয় জওয়ান। পাশাপাশি যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছে কুইক রেসপন্স টিম এবং সব বুথেই চলছে লাইভ ওয়েব কাস্টিং।তবে সব সুরক্ষাকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ায় ফলতায় কার্যত শাসকদলহীন এক ভোট দেখছে আমজনতা। ব্যালটে তাঁর নাম থাকলেও তিনি ময়দানে না থাকায় বিজেপির সামনে এখন আর প্রধান কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বললেই চলে। তবে শাসকদলের এই অনুপস্থিতিতে ভোটের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাম ও কংগ্রেস শিবির। এখন দেখার, তৃণমূলের এই ভোটব্যাঙ্ক কোন দিকে ঘোরে এবং ফলতার ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কার মাথায় জয়ের মুকুট পরান।হিডেন স্টোরিজ নিউজ