Delhi Police: ‘পুলিশ ডাহা মিথ্যে কথা বলছে!’ শেষকৃত্য আটকে অপেক্ষা পরিবারের, দীপক কোথায়?
নয়াদিল্লি: ২৪ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটক আর প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্টের আইনি প্রক্রিয়া শেষে রবিবার সকালে দিল্লি পুলিশের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর দুই সঙ্গী। কিন্তু এই মুক্তির আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ট্র্যাজেডিতে। ঠিক যে সময়ে দীপকে পুলিশি হেফাজতে ছিলেন, ঠিক সেই দিনই মৃত্যু হয় তাঁর ঠাকুমার। দিল্লি পুলিশ দাবি করেছিল, দীপকেকে এই মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে এবং বাড়ি ফেরার জন্য সবরকম সাহায্যের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিয়েছে দীপকে-র পরিবার। এমনকি দীপকের অপেক্ষায় এখনও ঠাকুমার শেষকৃত্য আটকে রেখেছেন ক্ষোভ ও শোকে পাথর হয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা।রবিবার সকালে সংবাদসংস্থার মুখোমুখি হয়ে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতার বাবা ভগবান দীপকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ছেলের সঙ্গে তাঁদের এখনও পর্যন্ত কোনও যোগাযোগই সম্ভব হয়নি। দিল্লি পুলিশের বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ করে তিনি জানান, পুলিশ যদি খবর দিয়েই থাকত, তবে দীপকে এতক্ষণে বাড়ি ফিরে আসত। দিল্লি থেকে সরাসরি বিমান থাকা সত্ত্বেও ছেলে কেন পৌঁছাল না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, দিল্লি থেকে দীপকেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তিনি আদতে দিল্লিতে ছিলেনই না। একই সুর শোনা গিয়েছে দীপকের মায়ের গলাতেও। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, ছেলের জন্য তাঁরা এখনো প্রিয়জনের শেষকৃত্য আটকে রেখেছেন, কিন্তু পুলিশের মিথ্যাচারের কারণে চরম মানসিক যন্ত্রণায় দিন কাটছে তাঁদের।এর আগে শনিবার রাতে দিল্লি পুলিশ একটি সরকারি বিবৃতি জারি করে দাবি করেছিল যে, দীপকের ঠাকুমার প্রয়াণের খবর তাঁর কাছে যথাসময়ে পৌঁছায়নি বলে যে সমস্ত ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য। অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গেই তাঁকে সমস্ত পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। কিন্তু পরিবারের এই অনড় অবস্থান এবং পুলিশের দাবির ফারাক এখন নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।শনিবার সকালে মুম্বই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই আচমকা দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়। রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করার পর ৫০ হাজার টাকার বন্ড এবং আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ না করার শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। একদিকে নেতাদের মুক্তি মিললেও, অন্যদিকে দীপকের বাড়ি না পৌঁছানো এবং পরিবারের গুরুতর অভিযোগে এই গোটা ঘটনাটি এক অন্য মোড় নিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:13542]