নড়বড়ে টিনের শেডের উপরেই চলছিল ঢালাইয়ের কাজ, তারাতলা বিপর্যয়ে ফরেন্সিকের দাবি
তারাতলায় গোডাউন ধসের ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গোডাউনের শেডটি কোনও একটানা বড় টিন দিয়ে তৈরি ছিল না। বরং ছোট ছোট ৩০ থেকে ৪০টি টিনের টুকরো নাট-বল্টু ও স্ক্রু দিয়ে জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছিল পুরো কাঠামো। শুধু তাই নয়, টিনের শেডের সঙ্গে মূল বিমেরও কোনও সরাসরি সংযোগ ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।[TECHTARANGA-POST:10416]তদন্তকারীদের দাবি, এই নড়বড়ে শেডের উপরেই কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। ঢালাই শুরু হতেই কাঠামো নড়তে শুরু করলেও কাজ বন্ধ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত সেই শেডই ভেঙে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে প্রাণ হারান ১৬ জন শ্রমিক। ফরেন্সিক রিপোর্টের ভিত্তিতে এখন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কলকাতা পুলিশ। দোতলার ঢালাই সম্পূর্ণ না করেই কীভাবে তিনতলার কাজ চলছিল? নির্মাণের আগে সয়েল টেস্ট হয়েছিল কি না এবং হয়ে থাকলে সেই রিপোর্টে কী উল্লেখ ছিল, তা জানতে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10327]ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় একাধিক গ্রেপ্তারি হয়েছে। বেআইনি নির্মাণে অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সহযোগিতা করছেন না। অন্যদিকে, গোডাউন লিজ নেওয়া সংস্থা ‘বেহরা ব্রাদার্স’-এর কর্ণধার শম্ভুনাথ বেহরাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর সংস্থার অফিসেও তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে নির্মাণকারী সংস্থা ‘অয়ন ট্রেডার্স’-এর সঙ্গে তাদের চুক্তির শর্ত ও সময়কাল। এছাড়াও আবদুল হামিদ নামে এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনিই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একাধিক সরকারি আধিকারিক-সহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারী দল।