বাংলাদেশে টিউশন পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ শিক্ষিকা, ছাত্রের বাড়ি থেকেই উদ্ধার বস্তাবন্দি লাশ!
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: প্রতিদিনের মতোই ছাত্রছাত্রীদের প্রাইভেট টিউশন পড়াতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন প্রৌঢ়া গৃহশিক্ষিকা। কিন্তু কে জানত, যে ছাত্রদের তিনি পরম স্নেহে শিক্ষা দিতেন, তাদের বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে তাঁর মৃত্যুফাঁদ! বাংলাদেশের রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড! নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সকালে ছাত্রের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হল ৫৫ বছর বয়সী গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দি ক্ষতবিক্ষত লাশ! এই নৃশংস ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছাত্রের বাবা-মাকে আটক করেছে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:9279]মৃত মরিয়ম বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুর বাজার এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মোসাদ্দেক হোসেন ও ছেলে মারুফ হোসেন বনি। মরিয়ম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়াতেন। সোমবার সকালে তিনি চৌকাপাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ রুবেল ও সুমি খাতুনের বাড়িতে তাঁদের দুই সন্তানকে পড়াতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, তারপর আর বাড়ি ফেরেননি।সোমবার রাত পর্যন্ত মা বাড়ি না ফেরায় মরিয়মের ছেলে মারুফ ওই ছাত্রের বাড়িতে খোঁজ নিতে যান। কিন্তু, রুবেল ও সুমি দম্পতি তাঁকে জানান, পড়ানো শেষ করে মরিয়ম অনেক আগেই চলে গিয়েছেন। কোনও উপায় না দেখে সোমবার রাতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মায়ের নিখোঁজ ডায়েরি করেন মারুফ।[TECHTARANGA-POST:9251]মঙ্গলবার সকালে এক চরম নাটকীয় মোড় নেয় এই ঘটনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ার ওই বাড়ি থেকে স্থানীয় থানায় একটি এমার্জেন্সি ফোন আসে। ফোনে জানানো হয়, তাঁদের বাড়িতে একটি মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ঘরের ভেতর থেকে মরিয়ম বেগমের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ জানতে পেরেছে, থানায় এই ফোনটি অন্য কেউ নয়, খোদ অভিযুক্ত দম্পতি রুবেল ও সুমি খাতুনই করেছিল![TECHTARANGA-POST:9177]মরিয়মের ছেলে মারুফের অভিযোগ, তাঁর মাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে ওই বাড়ির ভিতরেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া লাশের মাথা ও ঠোঁটে গভীর আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্লু মেলে মরিয়মের কান দেখে — তাঁর কানের লতি ছেঁড়া ছিল এবং কানের দুল দুটি গায়েব ছিল। তদন্তে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মরিয়ম বেগমের কানের সোনার দুল দুটির লোভেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে! পুলিশ ইতিমধ্যেই মহম্মদ রুবেল ও তাঁর স্ত্রী সুমি খাতুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।[TECHTARANGA-POST:9215]আটক দম্পতিকে কড়া জেরা করতেই বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। তাদের বয়ানের ভিত্তিতে স্থানীয় এক স্বর্ণকারের দোকানে হানা দিয়ে মরিয়ম বেগমের খোয়া যাওয়া সোনার দুল দুটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। চোরাই সোনা কেনার অপরাধে ওই স্বর্ণকারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। টাকার লোভ মানুষকে কতটা নিষ্ঠুর করে তুলতে পারে, এই ঘটনা তারই এক ভয়ঙ্কর প্রমাণ। ধৃতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।