অভিষেকের দুয়ারে সিআইডি! ‘স্যর নেই’ শুনেও নোটিস দিচ্ছেন গোয়েন্দারা?
কলকাতা: রাজ্যে একের পর এক রাজনৈতিক নাটকীয়তার মধ্যে এবার খোদ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবনের সামনে হাজির হলেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তথা সিআইডি-র আধিকারিকরা। শনিবার দুপুরে গোয়েন্দা সংস্থার চার সদস্যের একটি দল হঠাৎ করেই তাঁর বাড়ির সামনে পৌঁছয়। তবে, বাড়ির কর্মীরা গোয়েন্দাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে বাড়িতে নেই এবং গত কয়েকদিনের মধ্যে তিনি বা পরিবারের কেউ সেখানে আসেননি! আচমকা এই সিআইডি হানার প্রকৃত কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও, রাজনৈতিক মহলের অনুমান — বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের একটি চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্কের তদন্তেই এই পদক্ষেপ করা হতে পারে।[TECHTARANGA-POST:9620]প্রশাসন ও রাজনৈতিক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে সম্প্রতি স্পিকারের কাছে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তাতে কয়েক জন বিধায়কের স্বাক্ষরে ‘অসঙ্গতি’ বা গরমিল পাওয়া গিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে কলকাতা পুলিশকে সাহায্য করছে সিআইডি। আর, খুব সম্ভবত সেই তদন্তের সূত্রেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বয়ান রেকর্ড করতে বা তাঁকে নোটিস দিতে এদিন হরিশ মুখার্জি রোডে গিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকেরা। প্রসঙ্গত, এই একই মামলার তদন্তে এর আগে চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। এছাড়াও, ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম এবং ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতির বাসভবনেও তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছে সিআইডি।[TECHTARANGA-POST:9610]গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর, ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাসভবনে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন। সেই বৈঠকে দলের সর্বসম্মত প্রস্তাবে বিধায়করা হাত তুলে সায় দিয়ে জানান, পরিষদীয় দলের নেতা, উপনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন তা দলনেত্রী মমতাই চূড়ান্ত করবেন। এরপর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। [TECHTARANGA-POST:9618]সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেকের সই করা একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভায়। কিন্তু, নিয়মের জটিলতা এবং বিধায়কদের সই নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগে তা গৃহীত হয়নি। সেই চিঠির আইনি বৈধতা ও স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করতেই কি এবার সরাসরি অভিষেকের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ল সিআইডি?