রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে কেন দেশজুড়ে পালিত হয় সদ্ভাবনা দিবস? জেনে নিন ২০ আগস্টের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রতি বছর ২০ আগস্ট দেশজুড়ে পালিত হয় ‘সদভাবনা দিবস’ (Sadbhavana Diwas বা Harmony Day)। এই বিশেষ দিনটি ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর জন্মবার্ষিকীকে স্মরণ করে উদযাপিত হয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সম্প্রীতি, জাতীয় সংহতি ও শান্তি বজায় রাখাই এই দিনের মূল বার্তা। কিন্তু কেন এই দিনটিকে জাতীয় সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হলো? এর পেছনের ইতিহাস ও তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। মাত্র ৪০ বছর বয়সে ভারতের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন রাজীব গান্ধী। তিনি ছিলেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। যদিও গান্ধী পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি শুরুতে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিলেন। তিনি ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের (Indian Airlines) একজন পেশাদার বাণিজ্যিক পাইলট (Commercial Pilot) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।১৯৮০ সালে ছোট ভাই সঞ্জয় গান্ধীর আকস্মিক মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতিতে আসেন।১৯৮৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মা ইন্দিরা গান্ধী নিহত হওয়ার পর রাজীব গান্ধী দেশের দায়িত্ব নেন।তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বকালে টেলিকমিউনিকেশন ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক বিপ্লবের সূচনা হয়, যা বর্তমান ডিজিটাল ভারতের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। দেশের যুবসমাজকে এগিয়ে আনা এবং ভোটাধিকারের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করার মতো দূরদর্শী সংস্কারে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল। গ্রামীণ মেধার বিকাশে দেশজুড়ে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলায় উদ্যোগী হয়েছিলেন তিনি।১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন এলটিটিই (LTTE)-এর এক আত্মঘাতী বোমারু হামলায় তিনি নিহত হন। মৃত্যুর পর তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ (Bharat Ratna)-এ ভূষিত করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, জাতীয় সংহতি ও শান্তি রক্ষায় আজীবন অবদানের জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের বার্ষিক ‘রাজীব গান্ধী জাতীয় সদ্ভাবনা পুরস্কার’ প্রদান করা শুরু হয়। মাদার টেরেসা, সুনীল দত্ত, লতা মঙ্গেশকর প্রমুখ ব্যক্তিত্ব এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ২০ আগস্ট কেবল রাজীব গান্ধীর জন্মদিন নয়; বরং হিংসা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্য রক্ষা করার প্রাতিষ্ঠানিক দিন হিসেবে এটি পালিত হয়।[TECHTARANGA-POST:11798]