‘নীতিগত’ বিরোধে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের আচমকা ইস্তফা! শেয়ার বাজারে ব্যাপক ধস
কলকাতা ও মুম্বই: দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্ক এইচডিএফসি-র শীর্ষ স্তরে বড়সড় রদবদল। আচমকাই পদত্যাগ করলেন ব্যাঙ্কের আংশিক সময়ের চেয়ারম্যান তথা স্বাধীন অধিকর্তা অতনু চক্রবর্তী। তাঁর এই আকস্মিক বিদায়ে ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও ‘নৈতিকতা’ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও - এক ধাক্কায় এইচডিএফসির শেয়ারের দাম অনেকটাই পড়ে গিয়েছে।গত ১৭ মার্চ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠান প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক অতনু চক্রবর্তী। চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, গত দু'বছর ধরে ব্যাঙ্কের কিছু কর্মপদ্ধতি এবং সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত নীতি বা আদর্শের সঙ্গে মিলছে না। অতনু জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের কিছু সিদ্ধান্ত তিনি ‘নীতিগত’ভাবে মেনে নিতে পারছেন না। যদিও তিনি বোর্ডের সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। যদিও এত কিছুর পরও বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বিষয়টিকে কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করেন। বলেন, "এটি একটি রুটিন বিষয়। এ নিয়ে আর আলোচনার প্রয়োজন নেই।"এদিকে, অতনু চক্রবর্তীর ইস্তফার পরেই তৎপর হয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) থেকে আগামী তিনমাসের জন্য কেকি মিস্ত্রিকে অন্তর্বর্তীকালীন আংশিক সময়ের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। কেকি মিস্ত্রি এর আগে এইচডিএফসি লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানান, তাঁদের স্বার্থরক্ষাই ব্যাঙ্কের মূল লক্ষ্য।অন্যদিকে, অতনু চক্রবর্তীর ইস্তফার খবর চাউর হতেই শেয়ার বাজারে এইচডিএফসির স্টকে বড়সড় ধস নামে। বাজার খোলার পর শেয়ারের দাম (প্রতি শেয়ার) প্রায় ৮ শতাংশ কমে ৭৭০ টাকায় নেমে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা সামলে নিলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শেয়ারের দাম প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ কমে ৮০৫ টাকায় লেনদেন হচ্ছিল। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের এমন আচমকা পদত্যাগ এবং ‘নীতিগত’ কারণে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে।২০২১ সালে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে যোগ দেন অতনু চক্রবর্তী। গুজরাত ক্যাডারের এই প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। বিশেষ করে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে তিনি অর্থ সচিব (DEA) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়েই একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংযুক্তিকরণের ফলে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্কে পরিণত হয়।