বকেয়া বেতন ও শোষণের অভিযোগ: সল্টলেকে বিকাশ ভবন অভিযানে রাজ্যের সংখ্যালঘু হস্টেলকর্মীরা
বিধাননগর: পেটের টানে কাজ করেও মিলছে না ন্যায্য পাওনা। বছরের পর বছর একভাবে কাজ করে গেলেও বাড়েনি বেতন। উল্টে মাসের পর মাস পড়ে রয়েছে বকেয়া। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং একগুচ্ছ অন্য দাবিতে বুধবার সল্টলেকে বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিল 'পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু হস্টেল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন' (West Bengal Minority Hostels Staff Association)। এদিন দুপুর থেকেই সল্টলেকের ইন্দিরা ভবনের সামনে জমায়েত করেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সংখ্যালঘু হস্টেলকর্মীরা। সেখান থেকে মিছিল করে তাঁরা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকর্তার (DME) অফিসে ডেপুটেশন দিতে যান।আন্দোলনকারী কর্মীদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ২০১৭ সাল থেকে তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হস্টেলে গ্রুপ-সি, গ্রুপ-ডি সহ বিভিন্ন পদে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। কিন্তু, তাঁদের অভিযোগ - ২০১৬-১৭ সাল থেকে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁদের বেতনে এক টাকাও বৃদ্ধি করা হয়নি। এমনকী, হস্টেলকর্মীদের দিয়ে ১২ মাস কাজ করিয়ে নেওয়া হলেও বেতন দেওয়া হয় মাত্র ১০ মাসের। আবার, সেই ১০ মাসের বেতনও ঠিক মতো মেলে না। বর্তমানে দীর্ঘ কয়েক মাসের বেতন বকেয়া পড়ে রয়েছে বলে সরব হয়েছেন কর্মীরা।এদিন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকর্তার কাছে যে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে মূলত চারটি প্রধান দাবি রাখা হয়েছে। যথা - ১. সমস্ত বকেয়া বেতন অবিলম্বে মেটাতে হবে। ২. বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। ৩. ১০ মাসের পরিবর্তে পূর্ণ ১২ মাসের বেতন দিতে হবে। ৪. স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা থার্ড পার্টি এজেন্সি ব্যবস্থা বিলোপ করে সরাসরি সরকারি ট্রেজারির মাধ্যমে কর্মীদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বেতন পাঠাতে হবে।এদিন ইন্দিরা ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু হতেই পুলিশি তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার একদিকে উন্নয়নের খতিয়ান দিচ্ছে, অন্যদিকে হস্টেলকর্মীদের মতো প্রান্তিক কর্মীদের নূন্যতম মজুরি থেকেও বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা এজেন্সির মাধ্যমে বেতন দেওয়ার ফলে মাঝপথে টাকা লোপাট হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।[TECHTARANGA-POST:6433]এদিন প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যদি অবিলম্বে এই ৪ দফা দাবি মানা না হয় এবং বকেয়া বেতন না মেটানো হয়, তবে আগামী দিনে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিকাশ ভবনে শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের হাতে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব।