শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ! ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে ইটবৃষ্টি ছাত্রদের
ঢাকা : ২৪-এর রক্তক্ষয়ী ছাত্র আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফের বড়সড় ছাত্র বিদ্রোহের আগুনে উত্তাল হয়ে উঠল ওপার বাংলা। এবার সরাসরি বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা সহ একাধিক দাবিতে নতুন করে রাজপথে নেমে এলেন বাংলাদেশের হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘেরাওকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। শুধু তাই নয়, ঢাকার ব্যস্ততম সায়েন্সল্যাব মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে চলে বিশাল বিক্ষোভ। রাজধানী ঢাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে এই নতুন ছাত্র আন্দোলনের আগুন ইতিমধ্যেই বরিশাল, কুমিল্লা সহ গোটা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জমানার সেই গণবিক্ষোভের স্মৃতিকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের মূল অভিযোগ, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এইচএসসি (HSC) পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে মারাত্মক ভুল এবং অত্যন্ত কঠিন প্রশ্ন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁদের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা এবং অবিরাম বৃষ্টি বিপর্যয়ের মাঝেও অনড় অবস্থান নিয়ে পরীক্ষা বাতিল করেনি শিক্ষা দফতর। যার ফলে বন্যার কারণে বহু ছাত্রছাত্রী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। এই চরম অব্যবস্থার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিশাল জমায়েত শুরু হয় এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান উঠতে থাকে। মিছিলটি যখন শিক্ষা বোর্ডের মূল ভবনের দিকে এগোতে যায়, ঠিক তখনই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। এর পরেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তুমুল খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় এবং উত্তেজিত ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা বোর্ড লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইটবৃষ্টি শুরু করেন।বিক্ষোভের ঝাঁজ বাড়িয়ে মারুফ হাসান নামে এক ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী ছাত্র স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই শিক্ষামন্ত্রী আমাদের মুরগি মনে করেন। উনি কি ভুলে গিয়েছেন যে এই মুরগিরাই ২০২৪ সালে রাজপথে বুক পেতে রক্ত দিয়েছিল বলেই আজ উনি শিক্ষামন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পেরেছেন? আমাদের একমাত্র দাবি তাঁর পদত্যাগ।” এদিকে, এই ছাত্র অবরোধের জেরে ঢাকা ও বরিশাল সহ দেশের প্রায় ৩২টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শেষ পর্যন্ত মৃদু বলপ্রয়োগ করে ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। সোমবারও টানা বৃষ্টির তোয়াক্কা না করে বিকেল ৪টে নাগাদ সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। যেভাবে দিন দিন এই আন্দোলন জোরদার হচ্ছে, তাতে ওপার বাংলার নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের অস্বস্তি ও চাপ যে এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।[TECHTARANGA-POST:10947]হিডেন স্টোরিজ নিউজ