গাজিয়াবাদ: পোলিও-মুক্ত ভারতের তকমায় এবার বড়সড় ধাক্কা। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি জল শোধনাগার বা এসটিপি-র জলে আচমকাই হদিস মিলল মারাত্মক ভ্যাকসিন ডিরেভড পোলিও ভাইরাস টাইপ ১-এর। এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে আসতেই দেশজুড়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শহরের ১২টি অতিসংবেদনশীল এলাকায় সতর্কতা জারি করে আসরে নেমেছে ১০০টিরও বেশি বিশেষ মেডিক্যাল টিম।[TECHTARANGA-POST:9837]দেশকে পোলিও-মুক্ত রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে প্রতি মাসেই বিভিন্ন শহরের পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার বা এসটিপি থেকে দূষিত জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। সেই নিয়ম মেনেই গাজিয়াবাদের দুন্দাহেরা এসটিপি থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করে দিল্লির ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার সেই পরীক্ষার রিপোর্ট আসতেই চক্ষু চড়কগাছ স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়, ওই জলে জীবন্ত পোলিও ভাইরাসের অস্তিত্ব রয়েছে। রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্যের উচ্চপদস্থ স্বাস্থ্য কর্তারা এবং দ্রুত গাজিয়াবাদের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।[TECHTARANGA-POST:9836]পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই ১০৭টি দক্ষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলি গাজিয়াবাদের চিহ্নিত ১২টি হাই-রিস্ক এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি শুরু করবে। মূলত শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পাশাপাশি তাদের জরুরি ভিত্তিতে পোলিও ড্রপ বা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলার সার্বিল্যান্স আধিকারিক ডাক্তার আরকে গুপ্তা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, এলাকায় পোলিও ভাইরাসের এই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতভাবেই বিপজ্জনক। স্বাস্থ্যদপ্তর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং ভাইরাসের মূল উৎস কোথায়, তা খুঁজে বের করতে প্রতিটি শিশুর ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9833]চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পোলিও ভাইরাস সাধারণত যেসব শিশুর টিকা নেওয়া নেই, তাদের অন্ত্রে সহজেই বংশবিস্তার করে এবং মলের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, গাজিয়াবাদের যেসব এলাকায় স্যানিটাইজেশন বা পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল, সেখানকার কোনো আক্রান্ত শিশুর মল থেকেই এই ভাইরাস ড্রেনেজ সিস্টেম হয়ে মূল শোধনাগারে পৌঁছে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই ভাইরাস যদি কোনোভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তবে যেসব শিশুর টিকাকরণ সম্পূর্ণ হয়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা চিরতরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে। ফলে এই ঘটনা যে গোটা দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর জন্য নতুন এক অ্যালার্ম বেল, তা বলাই বাহুল্য।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার