কলকাতা: গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর থাকা নিম্নচাপ এবার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে নতুন করে তাণ্ডব চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর জেরে কলকাতা ছাড়িয়ে দুর্যোগের কেন্দ্রবিন্দু এখন সরছে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির দিকে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, শান্তিনিকেতনের দক্ষিণে অবস্থানরত এই নিম্নচাপটি ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিতে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের দিকে এগোবে। এর প্রভাবে মঙ্গলবারও গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই জারি থাকছে দুর্যোগের হলুদ সতর্কতা।মঙ্গলবার মূলত পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লালচে মেঘ ঘনিয়ে উঠছে। এই ছয় জেলায় জল জমে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হওয়া এবং রাস্তায় তীব্র যানজটের চরম আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে কলকাতা সহ বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। শহরের উত্তর ও মধ্য কলকাতার রাস্তায় জল জমে প্রবল যানজট তৈরি হতে পারে, তাই স্কুল-কলেজ বা অফিসযাত্রীদের বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বাজ পড়ার হাত থেকে বাঁচতে খোলা মাঠ, গাছের তলা বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়াতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাওয়া অফিস।উপকূলবর্তী দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ৬০ কিলোমিটারে পৌঁছতে পারে বলে মঙ্গলবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে উপকূলে কোনও জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা নেই। বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমে হালকা থেকে মাঝারি রূপ নেবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারেও শুক্রবার পর্যন্ত চলবে ভারী বর্ষণ, যার ফলে পাহাড়ি এলাকাতেও দুর্যোগ বজায় থাকার পূর্ণ পূর্বাভাস মিলেছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ