হাওড়ার বহুতলে দাউদাউ আগুন! বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে ঘরেই মৃত বৃদ্ধা, আতঙ্কে ছাদ-বারান্দা থেকে ঝাঁপানোর চেষ্টা আবাসিকদের
হাওড়া: নিউ মার্কেটের হোটেলের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শহরে আগুনের তাণ্ডব। এবার হাওড়ার আন্দুলের আমতলার এক বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারালেন গোপা চক্রবর্তী (৭২) নামের এক বৃদ্ধা। কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকজন আবাসিক। বুধবার ভরদুপুরে আচমকা এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার টানা লড়াইয়ের পর দমকলের ৩টি ইঞ্জিন অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে আন্দুলের আমতলায় অবস্থিত একটি আবাসনের তিনতলার ফ্ল্যাটে আচমকাই আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুনের লেলিহান শিখা নীচের তলাতেও ছড়িয়ে পড়তে থাকে। নিমেষেই ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা আবাসন চত্বর। প্রাণভয়ে চিৎকার শুরু করেন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। অনেকে বিভিন্ন তলে আটকে পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও দমকলকর্মীরা দ্রুত যৌথভাবে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। আবাসনের ভেতরে আটকে পড়া আতঙ্কিত বাসিন্দাদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হলেও, ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া বেশ কয়েকজনকে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত ফ্ল্যাটের ভিতরেই বিষাক্ত ধোঁয়ায় দম আটকে মৃত্যু হয় বৃদ্ধা গোপা চক্রবর্তীর।দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে ফের একবার বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। দমকল আধিকারিকদের দাবি, ওই আবাসনে পর্যাপ্ত ও আধুনিক কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাই ছিল না। ফলে বিপদ আরও বড় আকার নিতে পারত, তবে দ্রুত দমকল পৌঁছনোয় বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে। সম্প্রতি কলকাতা এয়ারপোর্ট এলাকায় যশোর রোডের কাছে বাঁকড়ায় একটি গাড়ির শো-রুমে আগুন লাগে৷ তার কিছুদিন আগে কলকাতার হোটেল এবং তারাপীঠের হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজ্যজুড়ে৷ সেই ভয়াবহ স্মৃতি তাজা থাকতেই ফের আন্দুলের এই ঘটনায় বহুতলগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।হিডেন স্টোরিজ নিউজ