নবান্নের অদূরে চারতলা বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতি! বোনের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে লুটপাট
হাওড়া : রাজ্য প্রশাসনের সদর দপ্তর নবান্নের একেবারে ঢিলছোড়া দূরত্বে এবার এক হাড়হিম করা ডাকাতির ঘটনা ঘটল। খোদ হাওড়ার জনবহুল চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। রবিবার রাত ১০টা নাগাদ চ্যাটার্জিহাট বাজারের ঠিক পিছনে অবস্থিত একটি চারতলা বাড়িতে হানা দেয় সশস্ত্র ডাকাত দল। গৃহকর্তা ও গৃহিণীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তাঁদের নাবালক ছেলে ও মেয়ের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আলমারি খুলে প্রচুর সোনার গয়না এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লুঠ করে চম্পট দেয় তিন দুষ্কৃতী।আক্রান্ত পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে তাঁদের বাড়ির পাশে একটি মন্দিরে পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ভোগ বিতরণ চলায় পরিবারের বড়রা সকলেই মন্দিরে উপস্থিত ছিলেন। চারতলা বাড়িতে তখন কেবল ওই দম্পতির নাবালক ছেলে এবং মেয়ে ছিল। অভিযোগ, রাতের দিকে বাড়ির নীচে বাইক ঢোকানোর জন্য ছেলেটি যখন নীচে নামে, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা এক দুষ্কৃতী তার ওপর চড়াও হয়। সেই সুযোগে বাকি আরও দুই দুষ্কৃতী ঝড়ের গতিতে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর চাবির জন্য নাবালকের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। প্রথমে সে চাবি দিতে অস্বীকার করলে তার হাতে ছুরি চালানো হয় এবং তার বোনের মাথায় সরাসরি বন্দুক ঠেকায় ডাকাতরা। বোনের প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আলমারির চাবি দিয়ে দেয় ভাই। এরপর আলমারি খুলে গয়না ও টাকা ব্যাগে পুরে পালায় দুষ্কৃতীরা। এমনকি বাড়ির একটি পোষ্য কুকুরকেও তারা নির্মমভাবে আঘাত করে বলে অভিযোগ।আক্রান্ত নাবালকের মা জানিয়েছেন, তাঁরা পুজোর জায়গায় থাকার সময়েই এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তিন দুষ্কৃতীই মুখে কালো কাপড় বেঁধে এসেছিল, যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরই চ্যাটার্জিহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। নবান্নের এত কাছে এমন জনবহুল এলাকায় এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। অভিযোগ পেয়েই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ। দুষ্কৃতীদের খোঁজে ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।[TECHTARANGA-POST:10951]হিডেন স্টোরিজ নিউজ