South Bengal Weather: গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল দক্ষিণবঙ্গ! কলকাতার পাশাপাশি জলে ভাসছে হাওড়া, ঝাড়গ্রাম
কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ স্থলভাগে প্রবেশ করতেই দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের কাছ দিয়ে ভূভাগে প্রবেশ করার পর শক্তি ধরে রেখে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এই নিম্নচাপ। এর সরাসরি প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডব শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, নিম্নচাপটি জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে আরও শক্তি বাড়ানোর ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।বৃষ্টির প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই চরম জলযন্ত্রণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণে গোটা হাওড়া শহরের একাংশ কার্যত জলের তলায়। শহরের প্রায় ২৭টি ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও দ্রুত জল নিকাশির জন্য ৪৭ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে দমকলের ইঞ্জিন নামিয়ে জল পাম্প করে বের করার কাজ শুরু করেছে হাওড়া পুরসভা। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গিয়েছে ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকে। সেখানে দুপুরে চুনপাড়া, প্রতাপপুর ও তুঙ্গাধুয়া এলাকায় আচমকা আছড়ে পড়ে টর্নেডোর মতো শক্তিশালী ঘূর্ণি ঝড়। হাওড়ার দাপটে কিছু পুরনো গাছ ভেঙে পড়লেও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবে এই ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপের দাপটে বৃহস্পতিবার দিনভর কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বীরভূমে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ জারি থাকবে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ থাকবে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারেও জারি করা হয়েছে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা। শুক্রবারও দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূমে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে।অবশেষে এই দুর্যোগের মেঘ কাটার সুখবরও শুনিয়েছে আবহাওয়া দফতর। জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় গভীর নিম্নচাপটি ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করবে। শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা অনেকটাই কমবে। আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হলেও স্থানীয়ভাবে মেঘ সঞ্চারের ফলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস বহাল থাকছে।[TECHTARANGA-POST:12957]